লখনউ, ১৬ জুলাই:উত্তরপ্রদেশের রামপুরে সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খানের স্বপ্নের প্রকল্প ‘মোহাম্মদ আলী জোহর বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ওপর নেমে এল যোগী সরকারের বড়সড় প্রশাসনিক খাঁড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভবনই সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কোনো অনুমোদিত নকশা (Approved Building Plan) ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RDA)। এই অভিযোগে বুধবার, ১৫ জুলাই ২০picker৬ তারিখে জোহর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ওই ৩৮টি বহুতল ভবন ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ নির্মাণগুলি সরিয়ে না নিলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার নামিয়ে সেগুলি গুঁড়িয়ে দেবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে রামপুর জেলে বন্দি রয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সভাপতি আজম খান।
রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহ-উপাচার্য তথা রামপুরের জেলাশাসক অজয় কুমার দ্বিবেদী উত্তরপ্রদেশ নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন আইন, ১৯৭৩-এর ২৭ নম্বর ধারার অধীনে এই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। জোহর ট্রাস্ট পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার পর জানা গেছে, গোটা ক্যাম্পাসে থাকা ৪০টি ভবনের মধ্যে মাত্র দুটি ভবনের ক্ষেত্রে জিলা পঞ্চায়তের বৈধ অনুমোদন ছিল। বাকি ৩৮টি ভবনের ক্ষেত্রে কোনো রকম সরকারি বা বৈধ প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি, যার মোট আয়তন প্রায় ৮২,৩০৯.৮০ বর্গমিটার।
প্রশাসনের এই নির্দেশের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, যখন এই ভবনগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল (২০০৬ সালের পর), তখন এই অঞ্চলটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারভুক্ত ছিল না, বরং জিলা পঞ্চায়তের অধীনে ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি আরডিএ-র অধীনে আসে। তবে জেলাশাসক এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানান, নির্মাণ যে সময়েরই হোক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। যেহেতু দুটি ভবনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন, তা সত্ত্বেও বাকি ৩৮টি ভবনের ক্ষেত্রে নকশা পাসের তোয়াক্কা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় আইন পাস করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীকালে অখিলেশ যাদবের মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে এর পরিকাঠামোর ব্যাপক বিস্তার ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনে ও ভিত্তিপ্রস্তরে মুলায়ম সিং ও অখিলেশ যাদবের সরাসরি সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। ফলে এই উচ্ছেদ আদেশের পর রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অনুসারেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ক্যাম্পাসে বিশেষ কাউন্সেলিং ক্যাম্প খোলারও নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.