কেরলের মালয়ালম বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত গবেষককে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৌচাগার ও চত্বর পরিষ্কার করানোর মতো অপমানজনক কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

কেরলের মালয়ালম বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত গবেষককে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৌচাগার ও চত্বর পরিষ্কার করানোর মতো অপমানজনক কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

তিরুর, ২১ আগস্ট:

কেরলের তুঞ্চাথ এঝুথাচান মালয়ালম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দলিত পিএইচডি গবেষকের ওপর ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও জাতিগত হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। গবেষণামূলক ও অ্যাকাডেমিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি তাঁকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৌচাগার ও চত্বর পরিষ্কার করানোর মতো অপমানজনক কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষ ও অধ্যাপকদের একাংশের বিরুদ্ধে। এই জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এবং সুবিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন ওই দলিত গবেষক।

অভিযোগকারী গবেষকের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে নিয়মিত বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছিল। অন্যান্য গবেষকদের যেখানে গবেষণার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সেমিনার ও প্রকল্প পরিচালনার কাজ দেওয়া হয়, সেখানে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গবেষণার মূল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হতো। এমনকি গবেষণার কাজের বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর এবং কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে তাঁকে বাধ্য করা হতো বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

দলিত গবেষক জানিয়েছেন, বারবার নিজের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে চাওয়ার কারণে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। জাতপাত তুলে কটূক্তি ও মানসিক হেনস্থার মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবশেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রান্তিক ও দলিত সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ছাত্র ও মানবাধিকার সংগঠন। আন্দোলনরত গবেষকের সমর্থনে একাধিক সামাজিক সংগঠন পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং ঘটনায় যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সমমর্যাদা ও সুষ্ঠু অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন ওই প্রতিবাদী গবেষক।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply