বেঙ্গালুরুতে খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তির বাধা প্রদানের ভিডিও ভাইরাল, কেস ফাইল

বেঙ্গালুরুতে খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তির বাধা প্রদানের ভিডিও ভাইরাল, কেস ফাইল

বেঙ্গালুরুতে একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তিকে আক্রমণাত্মকভাবে বাধা দিতে দেখার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর শহরের কোরামঙ্গলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সত্যনিষ্ঠ আর্য নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং তার কয়েকজন সহযোগী মিলে একজন খ্রিস্টান যাজক ও সেখানে উপস্থিত প্রার্থনাকারীদের হেনস্তা করছেন। কপালে তিলক পরা ওই ব্যক্তি বারবার অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং যাজককে জিজ্ঞাসা করেন, “যিশু খ্রিস্টের বই কোনটি?” যাজক যখন “জন-এর সুসমাচার এবং বাইবেল” বলে উত্তর দেন, তখন ওই ব্যক্তি বাইবেল এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে উপহাস শুরু করেন।


তিনি বাইবেলের উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হিন্দু ধর্মগ্রন্থ যেমন বেদ, মনুস্মৃতি ও উপনিষদের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেন। ভিডিওতে তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমরা কোনো খ্রিস্টান বাইবেল মানব না… জয় শ্রী রাম!” তিনি আরও বলেন, “যিশু খ্রিস্ট আমাদের কেউ নন। আমাদের কে? ভগবান রাম, তাই না?”
ভিডিওতে তাকে বাবরী মসজিদ নিয়ে উস্কানিমূলক তুলনা করতে এবং মুসলিম ধর্মগুরু মাওলানা মাহমুদ মাদানির বিরুদ্ধে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। এছাড়া তিনি কুমারী মেরির গর্ভধারণ এবং খ্রিস্টান বিশ্বাস নিয়ে বিদ্রূপ করেন ও যাজককে নানা কুরুচিপূর্ণ প্রশ্ন করেন। এমনকি প্রতিবাদ জানানো এক নারীকেও তিনি গালিগালাজ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে ওই ব্যক্তি কর্ণাটকের বাসিন্দা নন। দক্ষিণ-পূর্ব বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) সারা ফাতিমা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ভিডিওটি প্রচারকারী হ্যান্ডেল—কেউই কোরামঙ্গলা থানার আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা নন। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কোরামঙ্গলা থানায় একটি নন-কগনিজেবল রিপোর্ট (NCR) দায়ের করা হয়েছে।



এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি। তিনি এক্স-এ (টুইটার) লিখেছেন, “বড়দিন যত এগিয়ে আসছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের সহিংস ঘটনা বাড়ছে। এই ভিডিওতে থাকা অপরাধীদের মনে খ্রিস্টানদের প্রতি গভীর ঘৃণা রয়েছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে প্রশ্ন তোলেন যে এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে এনএসএ (NSA)-র মতো আইন প্রয়োগ করা হবে কিনা।
সাংবাদিক তামাল সাহা দাবি করেছেন যে, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিটি আসলে বাংলাদেশ থেকে আসা সান্নিউর রহমান, যিনি এখন হিন্দু নাম ব্যবহার করছেন এবং তিলক ও গেরুয়া পোশাক পরে ভারতে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। বাংলাদেশি সাংবাদিক সামিও একই দাবি করে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি আগে একজন মুসলিম ছিলেন, পরে নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করেন এবং ২০১৮ সালে ‘শ্রী সত্যনিষ্ঠ আর্য’ নাম ধারণ করেন। বর্তমানে তিনি খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ঘৃণা প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply