দীর্ঘ ছয় মাসের অকথ্য দুর্ভোগ ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বিতাড়িত গর্ভবতী সুনালি খাতুন ও তাঁর নাবালক পুত্র মাতৃভূমি ভারতে ফিরে এসেছেন। এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলামের একান্ত ও নিরলস প্রচেষ্টা ছিল অন্যতম মূল চালিকাশক্তি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে এই দরিদ্র পরিবারের জন্য আইনি লড়াইয়ে অবিচল সহায়তা জুগিয়েছেন।
সাংসদ সামিরুল ইসলাম তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, এই ঘটনা দরিদ্র বাংলাভাষী নাগরিকদের ওপর চালানো অত্যাচারের একটি নগ্ন চিত্র, যা এই দিনটিকে ঐতিহাসিক করে রাখবে।
চলতি বছরের জুন মাসে গর্ভবতী সুনালি খাতুনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বিতাড়নের কারণ হিসেবে সাংসদ স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, “শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে” তাঁকে বেআইনিভাবে বিতাড়িত করা হয়েছিল। সাংসদ এই ঘটনাকে বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী জমিদার’ বলার একটি নির্মম উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ছয় মাস ধরে তিনি বাংলাদেশে “যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা” সহ্য করেন, এমনকি বাংলাদেশের আদালতও সুনালি খাতুনসহ অন্যদের জামিন মঞ্জুর করে।
https://www.facebook.com/share/v/1CxCWNWaTV
আদালত এই বহিষ্কারের তীব্র সমালোচনা করে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়:
- পৈতৃক বাড়িতে ফেরানোর নির্দেশ: কেন্দ্র সরকার সুনালি খাতুনকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও আদালত তা নাকচ করে সরাসরি তাঁকে বীরভূমে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
- চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের: গর্ভাবস্থার অগ্রসর পর্যায়ে থাকা সুনালির চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে নিতে বলা হয়েছে। বীরভূমের জেলা প্রশাসন ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে (CMOH) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নাগরিকত্বের উপর জোর: আদালত স্পষ্ট জানায়, সুনালির পিতা যদি ভারতীয় নাগরিক হন এবং তাঁকে বহিষ্কার না করা হয়, তবে ভারতীয় আইন অনুযায়ী সুনালি জন্মগতভাবে ভারতীয় নাগরিক এবং সেই কারণে তাঁর পুত্রও ভারতীয় নাগরিক। তাঁকে বাংলাদেশি বলার কোনো ভিত্তি নেই।
সাংসদ সামিরুল ইসলাম এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে ওই গরীব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াইয়ে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা জুগিয়েছেন।
সাংসদ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অবৈধভাবে নির্বাসিত সমস্ত নির্দোষ মানুষকে তাঁদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে আনার লড়াই চলতেই থাকবে, যতদিন না তাঁরা দেশে ফিরে আসেন।
এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সামিরুল ইসলামের একান্ত চেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টের মানবিক হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একজন বিপর্যস্ত ভারতীয় নাগরিক শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার লাভ করলেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

