মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) নিজেকে বিলুপ্ত করার ঘোষণার পর, সৌদি আরবের এক শীর্ষ মন্ত্রী দাবি করেছেন—ইয়েমেনের দক্ষিণের ইস্যু এখন একটি “বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধানের পথে” এগোচ্ছে।
সৌদি আরবের বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি আর শুধুই স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন সংলাপ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন অঞ্চলটি এখনও হুতি বিদ্রোহ, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের চাপ সামলাচ্ছে।
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) গঠিত হয়েছিল দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবিকে সামনে রেখে। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল ১৯৯০ সালের আগে বিদ্যমান দক্ষিণ ইয়েমেনকে আবার আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে STC শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তিতেও পরিণত হয়।
কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে STC তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক দক্ষিণ ইয়েমেন সংকটে একটি বড় মোড় বলে দেখছেন।
সৌদি মন্ত্রী জানিয়েছেন, STC বিলুপ্ত হওয়ায় দক্ষিণ ইস্যু নিয়ে আর কোনও একক গোষ্ঠীর আধিপত্য থাকবে না, বরং বিভিন্ন দক্ষিণী রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে এক টেবিলে বসিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁর কথায়,
“দক্ষিণ ইয়েমেনের সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পথ এখন দৃশ্যমান।”
আল আরাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব এই প্রক্রিয়াকে শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না, বরং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেও দেখছে।
তবে এই আশাবাদের মধ্যেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের সব গোষ্ঠী কি এই প্রক্রিয়ায় সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব পাবে?
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দক্ষিণী নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে STC বিলুপ্ত হলেও মাঠপর্যায়ে তাদের সামরিক প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে রাজনৈতিক সমাধান কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এছাড়া, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান এই প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটাও বড় প্রশ্ন।
ভারত থেকে বসে মধ্যপ্রাচ্যের এই ঘটনাপ্রবাহ দূরের মনে হলেও, বাস্তবে এর প্রভাব অনেক গভীর। ইয়েমেন সংকটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ, লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ এবং বৈশ্বিক রাজনীতি। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা না ফিরলে, তার প্রভাব ভারতসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে পড়বে।
