নয়াদিল্লি| ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :আজ সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজিরবিহীনভাবে নিজে সওয়াল করেছেন। তিনি Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিজের পিটিশন নিয়ে সরাসরি যুক্তি দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের সামনে তিনি খুবই আবেগপ্রবণ এবং কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
নীচে তাঁর প্রধান যুক্তিগুলো
- শুধু নাম কাটা হচ্ছে, নতুন নাম যোগ হচ্ছে না গত ৪ মাস ধরে কোনো নতুন ভোটার যোগ করা হচ্ছে না।
প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র deletion (নাম কাটা)-এর জন্য, inclusion (নাম যোগ)-এর জন্য নয়। - “Why only Bengal and not Assam?”
অন্যান্য রাজ্যে (বিশেষ করে আসামে) এই ধরনের কড়া SIR চালানো হচ্ছে না।নির্বাচনের আগে শুধু বাংলাকে টার্গেট করে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। - বিপুল সংখ্যক নাম কাটা হয়েছে প্রথম পর্যায়েই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম কাটা হয়েছে।
অনেক জীবিত মানুষকে “declared dead” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। - বিবাহের পর স্বামীর বাড়িতে চলে যাওয়া মেয়েদের নামও একতরফাভাবে কাটা হচ্ছে।
- মাইক্রো-অবজার্ভারদের (MO) অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাইক্রো-অবজার্ভারদের দিয়ে ERO (Electoral Registration Officer)-দের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।এদের অনেককে বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। এরা সাধারণ spelling mistake-এর জন্যও নাম কেটে দিচ্ছে।
- যথাযথ ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হচ্ছে না আধার কার্ড, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, OBC সার্টিফিকেট ইত্যাদি গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ সত্ত্বেও আধারকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে মানা হচ্ছে না। - মানুষের উপর অমানবিক চাপ SIR-এর চাপে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন (একজন বুথ লেভেল অফিসারও রয়েছেন)।
- দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য কষ্টদায়ক।
- নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে কটাক্ষ করে কমিশনকে “WhatsApp Commission” বলে সম্বোধন করেছেন।
অর্থাৎ, কোনো নিয়ম-কানুন ছাড়াই WhatsApp-এর মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। - “Justice is crying behind closed doors.”
কমিশনকে ৬ বার চিঠি লিখেছেন, কোনো উত্তর পাননি।
অন্য কোথাও ন্যায় পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সুপ্রিম কোর্টে এসেছি।“গণতন্ত্রকে বাঁচান” – এই আবেদন জানিয়েছেন। - সামান্য spelling mistake বা surname পরিবর্তনের জন্য নাম কাটা যাবে না।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বর্তমান ভোটার তালিকা (২০২৫-এর) দিয়েই করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রতিক্রিয়া কমিশনকে নোটিস জারি করা হয়েছে (বিশেষ করে মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে)।
কমিশনকে আরও sensitive হতে বলা হয়েছে।
পরবর্তী শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সোমবার)।
এই সওয়ালকে অনেকে ঐতিহাসিক বলছেন কারণ কোনো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এর আগে সুপ্রিম কোর্টে নিজে এভাবে সওয়াল করেননি। TMC এটাকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন এটা রাজনৈতিক বক্তব্য।
