নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, SC/ST/OBC ক্যাটাগরির প্রার্থীরা যদি জেনারেল ক্যাটাগরির কাট-অফ মার্কসের চেয়ে বেশি নম্বর পান, তাহলে তাদের অবশ্যই আনরিজার্ভড (জেনারেল) সিটে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। এই রায়ে জাস্টিস এম.এম. সুন্দরেশ এবং জাস্টিস সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ ২০২০ সালের কেরালা হাইকোর্টের একটি রায়কে উল্টে দিয়েছে, যা এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)-এর একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেনারেল প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
আগের নিয়ম কী ছিল?ভারতে সরকারি চাকরির নিয়োগে রিজার্ভেশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে। সাধারণত, রিজার্ভড ক্যাটাগরির (SC/ST/OBC) প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব কোটা (রিজার্ভড সিট) থেকে নিয়োগ পেতেন। যদি কোনো রিজার্ভড প্রার্থী জেনারেল ক্যাটাগরির কাট-অফের চেয়ে বেশি নম্বর পান, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের শুধুমাত্র রিজার্ভড কোটায় রাখা হতো। এতে জেনারেল ক্যাটাগরির সিটগুলোকে একটি ‘বন্ধ কম্পার্টমেন্ট’ হিসেবে দেখা হতো, যা শুধুমাত্র অ-রিজার্ভড প্রার্থীদের জন্য। এই ধারণার ফলে, মেধাবী রিজার্ভড প্রার্থীরা (Meritorious Reserved Candidates বা MRC) প্রায়ই জেনারেল সিট থেকে বঞ্চিত হতেন। কেরালা হাইকোর্টের ২০২০ সালের রায়ে AAI-এর ২০১৩ সালের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট (ফায়ার সার্ভিস) নিয়োগে ১২২টি আনরিজার্ভড সিটে রিজার্ভড প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করাকে ভুল বলে মনে করা হয়েছিল। ফলে একজন জেনারেল প্রার্থীকে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়, যিনি কাট-অফ মিস করেছিলেন। এটি ছিল আগের প্রচলিত ব্যাখ্যার একটি উদাহরণ।পূর্ববর্তী কিছু রায়ে (যেমন বিভিন্ন হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত) ‘মাইগ্রেশন’ (রিজার্ভড থেকে জেনারেলে স্থানান্তর) শুধুমাত্র ফাইনাল স্টেজে অনুমোদিত হতো এবং কোনো রিল্যাক্সেশন (যেমন বয়স, ফি, কাট-অফ) নেওয়া প্রার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। এতে ‘ডাবল বেনিফিট’ এর অভিযোগ উঠতো।নতুন নিয়ম কী এবং কেন পরিবর্তন হলো?সুপ্রিম কোর্ট এখন স্পষ্টভাবে বলেছে যে, আনরিজার্ভড ক্যাটাগরি কোনো ‘কোটা’ নয়, এটি একটি ‘ওপেন পুল’ যা সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য উন্মুক্ত। রিজার্ভেশন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোটায় প্রযোজ্য, কিন্তু এটি কোনো প্রার্থীকে মেধার ভিত্তিতে জেনারেল সিট থেকে বাদ দিতে পারে না। যদি কোনো SC/ST/OBC প্রার্থী জেনারেল কাট-অফের চেয়ে বেশি নম্বর পান, তাহলে তাকে জেনারেল সিটে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। এতে রিজার্ভড কোটা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সেই সিট অন্য রিজার্ভড প্রার্থীরা পান। এটি আর্টিকেল ১৪ এবং ১৬ (সমতা এবং চাকরিতে সমান সুযোগ)-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো সাংবিধানিক সমতার নীতি। পূর্ববর্তী রায়গুলোতে (যেমন Indra Sawhney ১৯৯২, Saurav Yadav ইত্যাদি) এই নীতি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘ওপেন’ মানে সত্যিকারের ওপেন—কোনো জাতি-ভিত্তিক বাধা নেই। সাম্প্রতিক রায়গুলো (যেমন জানুয়ারি ২০২৬-এর রাজস্থান ও কর্নাটক কেস) এই নীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে, যদিও রিল্যাক্সেশন নেওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেশন নিষিদ্ধ।কেরালা হাইকোর্টের রায় উল্টে যাওয়ায়, AAI-এর মতো নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এখন মেধা-ভিত্তিক লিস্ট রিভাইজ করতে হবে। এই রায় সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বাড়াবে।প্রভাব ও বিতর্কসমর্থকরা বলছেন, এটি মেধাকে প্রাধান্য দেয় এবং রিজার্ভেশনের উদ্দেশ্য পূরণ করে। সমালোচকরা মনে করেন, এতে জেনারেল প্রার্থীদের সুযোগ কমতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো ‘ডাবল বেনিফিট’ নয়, বরং সমতার প্রয়োগ।এই রায় ভারতের রিজার্ভেশন ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও অনেক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।

