মুরাদাবাদ,উত্তর প্রদেশের : উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদ জেলার বিলারি শহরে একটি ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে পড়ুয়া পাঁচজন নাবালিকা মুসলিম ছাত্রীকে (বয়স ১৫-১৭ বছর) উত্তর প্রদেশের কঠোর ধর্মান্তরণ নিষিদ্ধকরণ আইনের (Uttar Pradesh Prohibition of Unlawful Conversion of Religion Act, ২০২১) ধারা ৩-এর অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা তাদের ১৬ বছর বয়সী হিন্দু সহপাঠীকে জোর করে বোরখা পরিয়ে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করেছে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচজন মুসলিম ছাত্রী রাস্তার একটি গলিতে তাদের হিন্দু বান্ধবীকে বোরখা পরাতে সাহায্য করছে। অভিযোগকারীর (হিন্দু ছাত্রীর ভাই) দাবি অনুসারে, এই পাঁচজন ছাত্রী প্রায়ই তার বোনকে ননভেজ খাবার খেতে এবং ধর্ম পরিবর্তন করতে চাপ দিত। তারা বলত, “বোরখা পরলে তুমি খুব সুন্দর লাগবে, ইসলাম গ্রহণ করলে তোমার ভাগ্য বদলে যাবে।” এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি এফআইআর দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে।
কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা দেখা গেছে। প্রথমে, ১৬ জানুয়ারি পুলিশ জানিয়েছিল যে ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর এবং কোনো অপরাধ হয়নি। তারা ভাইরাল ভিডিও ছড়ানোর জন্য গুজব ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে, ২৪ জানুয়ারি তারা মত পরিবর্তন করে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে। এই পরিবর্তনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তরণ বিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে নাবালিকাদের ক্ষেত্রে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র বন্ধুত্বের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হতে পারে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী পরিবার দাবি করছে যে এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

এই মামলা এখনও তদন্তাধীন। পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং নাবালিকাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের কারণে সমাজে বিভিন্ন মতামতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা ধর্মান্তরণ আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনার দাবি রাখে।

