কলকাতা ও বেঙ্গালুরু | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বর্তমানে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পাঠানো এই নোটিশকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মূলত চার পাঁচটি কারণে এই নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সাথে বর্তমান নামের বানানে অমিল। দ্বিতীয়ত, একই পরিবারে ভাই-বোনের সংখ্যা ছয়এর বেশি হওয়া। তৃতীয়ত, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম বা ৪৫ বছরের বেশি হওয়া। এবং চতুর্থত, বর্তমানে ৪৫ ঊর্ধ্ব কোনো ব্যক্তির নাম ২০০২ সালের তালিকায় না থাকা। এই বিষয়গুলোকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভোটারদের নথিপত্রসহ এআরও (ERO)-র সামনে হাজির হতে বলা হচ্ছে।
এই নোটিশের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের কর্মসংস্থান কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কর্ণাটক বেঙ্গল কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, গত কয়েকদিনে প্রায় ৯,৪০০ জন শ্রমিক বেঙ্গালুরু ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। হঠাৎ এই গণ-প্রস্থানের ফলে বেঙ্গালুরুতে শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা ২০১৯ সালের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। অনেক শ্রমিক প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে বা রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় বাড়ি ফিরছেন।
এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বস্তিদায়ক তথ্যটি হলো—বাইরে থাকা ভোটারদের সশরীরে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যদি কোনো ভোটার রাজ্যের বা দেশের বাইরে থাকেন, তবে তার পরিবারের কোনো সদস্য (বাবা, মা, স্ত্রী বা ভাই-বোন) প্রয়োজনীয় মূল নথিপত্র নিয়ে এআরও-র কাছে হাজির হয়ে শুনানি সম্পন্ন করতে পারেন। তবে নথিপত্র নিজেদের কাছে থাকা এবং সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই কর্মস্থল ছেড়ে সশরীরে বাড়ি ফিরছেন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
