পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে রবিবার ‘ওয়াক্ফ বাঁচাও, সংবিধান বাঁচাও’ শীর্ষক এক মহাসভায় আরজেডি নেতা তথা বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “নভেম্বরেই বিহারে দরিদ্রবান্ধব নতুন সরকার গঠিত হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার প্রণীত বিতর্কিত ওয়াক্ফ আইনকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হবে।”
সভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস, এআইএমআইএম-সহ একাধিক বিরোধী দলের নেতা। সকলেই প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে কালো ফিতা বেঁধে অংশ নেন। তেজস্বী বলেন, “আমাদের সাংসদরা সংসদে এই আইনটির বিরোধিতা করেছেন এবং আমরা ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “ভারত যেন কারও বাপের দেশ হয়ে গেছে – বিজেপির এমনই আচরণ। অথচ স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল সমস্ত ধর্মের মানুষের সম্মিলিত লড়াই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিজেপির পক্ষে নির্বাচনী কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে। “বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে কমিশন। আমাদের সজাগ থাকতে হবে এবং এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়তে হবে,” বলেন তিনি।
সভার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা সালমান খুরশিদ, যিনি বলেন, “এই সভার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়াক্ফ, গণতন্ত্র এবং ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে রক্ষা করা।” সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী, সৈয়দ নাসির হুসেন, এআইএমআইএম বিহার সভাপতি আখতারুল ইমান এবং নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব।
জানাজানার মধ্যে প্রতাপগড়ীর আগমন ঘটে এক খোলা গাড়িতে, তাঁর জনপ্রিয় কবিতা এবং বক্তব্য শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে যুবসমাজ।
এই সমাবেশে বিরোধীদের ঐক্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বার্তাই যেন উঠে এল জোরালোভাবে।
