রাঁচি : ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শেখ (বয়স প্রায় ৩৬-৩৭ বছর), পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা থানার সুজাপুর-কুমারপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বহু বছর ধরে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালা (হকার) হিসেবে কাজ করছিলেন। ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে তাঁর ভাড়া ঘরে (আবাসস্থলে) ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ এখনও পর্যন্ত এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে বর্ণনা করলেও, পরিবারের দাবি এটি খুন এবং ঘটনাটি সাজানো।পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধারের পরপরই পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। দেহে আঘাতের চিহ্ন এবং মারধরের সম্ভাব্য লক্ষণ পাওয়া গেছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালাচ্ছে। বিশ্বস্ত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট অনুসারে, পুলিশ দেহের অবস্থা, ফাঁসির দড়ি, ঘরের ভিতরের অবস্থা এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) পরীক্ষা করছে। এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেপ্তার হয়নি, তবে তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় পুলিশ স্টেশন (ভিশ্রামপুর বা মাহেশপুর এলাকার কাছাকাছি) এই মামলাটি হ্যান্ডেল করছে, এবং প্রয়োজনে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের কথাও উঠেছে।
পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে মৃতের শ্যালক ওসমানসহ অন্যান্য আত্মীয়রা দাবি করেছেন যে, আলাউদ্দিনকে প্রথমে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, “আলাউদ্দিন বাংলায় কথা বলতেন বলে স্থানীয় কিছু লোক তাঁকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহ করে থাকতে পারে। তাই তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে দেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” পরিবারের দাবি, দেহে মারধরের গুরুতর চিহ্ন রয়েছে—যেমন মাথা, বুক এবং হাত-পায়ে আঘাতের দাগ, যা সাধারণ ফাঁসির ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তাঁরা পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক রিপোর্ট এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এক আত্মীয় বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি না যে আলাউদ্দিন নিজে আত্মহত্যা করেছে। সে সবসময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, কোনও মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ ছিল না। এটা পরিকল্পিত খুন।”
ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় খবরের উৎস এবং এক্স-এর বিশ্বস্ত পোস্টগুলিতে যেমন জাতীয় সংবাদ সংস্থা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের আপডেট উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশ দেহ উদ্ধারের পরপরই ভিডিওগ্রাফিতে পোস্টমর্টেম করেছে। কোনও যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি, তবে অন্যান্য আঘাতের চিহ্ন নিয়ে পরীক্ষা চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রভাত খবরের মতে এই ঘটনাকে ‘রহস্যময় মৃত্যু’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে পুলিশের তদন্তকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্স-এর পোস্টে ANI তে উল্লেখ আছে যে, ঝাড়খণ্ড পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্তরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।এই ঘটনা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। আলাউদ্দিনের মতো অনেকেই অন্য রাজ্যে কাজ করে পরিবার চালান।
পরিবারের দাবি অনুসারে, তদন্ত যদি স্বচ্ছ না হয়, তাহলে আরও অসন্তোষ বাড়বে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এটি আত্মহত্যা না খুন।এখনও পর্যন্ত তদন্তের কোনও বড় অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি, তবে পুলিশের কঠোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

