জঙ্গিপুর ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, : মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত জঙ্গিপুর পি ডব্লিউ ডি ময়দানে সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)-এর পঞ্চম বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হল। ওবিসি অধিকার, ওয়াকফ আইন, এসআইআর সহ সমাজে চলমান নানা বৈষম্যের প্রতিবাদে ইসলামপুর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম বলেন, দেশের সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এসডিপিআই কখনও আপোষ করবে না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত বেনাগরিক করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন— এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বিজেপির রাজনৈতিক নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা আজ আর নিরপেক্ষ নন— বরং শাসক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলেই বহু বিএলও কর্মী গণহারে পদত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন এবং এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন, বিডিও ও এসডিও দফতরে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

জঙ্গিপুরের সাংসদ ও রঘুনাথগঞ্জের বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাকিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের বিপুল ওবিসি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ উপেক্ষিত হলেও জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি জনগণের সমস্যা না বোঝা নেতাদের আগামী নির্বাচনে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন হবে পরিযায়ী শ্রমিকের অধিকার, বৈষম্যের অবসান, শিক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্বাচন। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক হামলা, ওয়াকফ আইন কিংবা জুয়েল রানার হত্যার ঘটনায় শাসক দলের নীরবতা তাদের দ্বিচারিতা ও দুর্নীতির নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে। অথচ দলের স্বার্থে আই-প্যাক অফিস বা কর্ণধারজর বাড়িতে রেড হলে দিল্লি ও কলকাতার রাস্তায় আন্দোলন সংগঠিত করা হয়— যা জনস্বার্থের প্রতি তাদের উদাসীনতাই প্রমাণ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য SDPI-কে বিধানসভা ও সংসদে শক্তিশালীভাবে উপস্থিত করতে হবে। তিনি দুর্নীতি ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন এবং ED ও I-PAC প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত শাহের মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। কাগজপত্র বদলের রাজনীতি নয়, সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার এবং একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার চক্রান্ত চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মানসারুল ইসলাম সংবিধানের ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও সৌভ্রাতৃত্বের মূলনীতির কথা তুলে ধরে বলেন, শাসকশ্রেণী এগুলি উপেক্ষা করেই দেশ শাসন করছে। এছাড়াও উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, সহ সভাপতি অশোক কুমার দাস, সদস্য খাইরূল ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা সভাপতি সহিদুল ইসলাম, লালগোলা বিধানসভা সভাপতি আবুল কাসেম, সমাজকর্মী মাওলানা আব্দুত তোয়াব তাঁদের বক্তব্যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য মোঃ আসাদুল্লাহ, মোঃ হাবিবুর রহমান, ওমেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট-এর রাজ্য সভাপতি আলিয়া পারভীন, উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজেমুল হক সহ বহু নেতৃত্ব।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

