আসন্ন ৬ ডিসেম্বর! বাবরি মসজিদ শহীদের ৩৩ তম বার্ষিকী। উক্ত দিনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পৈশাচিক হিংস্রতার সাক্ষী থেকেছিল গোটা দেশ সহ বিশ্ব। ধর্মীয় বিভাজনকারী কিছু নরপিশাচদের হাতে শহীদ হয়েছিল ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। এবার সেই দিনেই অর্থাৎ আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙ্গায় নতুন বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বলেই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর।
এই প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে বিজেপি।
বলা বাহুল্য, অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন হয়ে গেলেও প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। সেখানে মসজিদ নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে আর কবেই বা উদ্বোধন হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আদৌ তা বাস্তবায়িত হবে কিনা সেই নিয়ে শুরু বিতর্ক।
এদিন হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি মুখপাত্র ইয়াসের জিলানি বিধায়ককে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, কবির নির্বাচনী লাভের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। ‘তৃণমূল নেতারা, বিশেষ করে বিধায়ক হুমায়ুন কবির, ঘৃণার রাজনীতির জন্য পরিচিত। যদিও বিজেপির এহেন মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে অনেকে। জানিয়েছে, ধর্মীয় বিভাজনের কাজ বিজেপির। একেবারে কপিরাইট নেওয়া।

বলা বাহুল্য, হুমায়ুন কবির এর আগে একবার ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমরা ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। এটি সম্পূর্ণ হতে তিন বছর সময় লাগবে। বিভিন্ন মুসলিম নেতা সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’ তার এই মন্তব্য সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে শুরু হয় জোর চর্চা। যদিও এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র এবং তুলনামূলকভাবে সংযত।
কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেন, ‘যে কেউ একটি মসজিদ তৈরি করতে পারে, এতে বাবরের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়? তারা যদি মসজিদ বানাতে চান, বানাতে পারেন।’
অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, ‘কেউ যদি মসজিদ, মন্দির, গুরুদ্বার বা চার্চ বানায়, তাতে বিতর্কের কী আছে? কেন এটাকে বিতর্কে পরিণত করা হচ্ছে? প্রত্যেক ধর্মেরই নিজ নিজ উপাসনালয় নির্মাণের অধিকার রয়েছে।’
অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনও একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাজিদ রাশিদি বলেন, ‘সম্ভবত তারা বুঝতে পারছেন না যেকোনো জায়গায় একবার মসজিদ তৈরি হলে তা কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদই থাকে। ভারত জুড়ে বাবরি মসজিদের নামে শত শত মসজিদ তৈরি হলেও অযোধ্যার আসল বাবরি মসজিদের গুরুত্ব কখনো মুছে যাবে না।
