কলকাতা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আমলে এবারের দুর্গাপূজায় বামপন্থী দলগুলির (প্রধানত সিপিআই(এম), সিপিআই ও সিপিআই(এমএল) লিবারেশন) ঐতিহ্যবাহী বইয়ের স্টল নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে একাধিক স্থানে স্টল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও প্রশাসনিক অপসারণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) কর্মকর্তারা স্টল সরানোর চেষ্টা করেছেন, কোথাও কোথাও বুলডোজারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রধান ঘটনাগুলি:
- যাদবপুর: শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যাদবপুর ৮বি এলাকায় সিপিআই(এম)-এর স্টলের সামনে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কেএমসি কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে হাজির হন। দলের পক্ষ থেকে অনুমতির কাগজ দেখানো হলেও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলায় তাৎক্ষণিকভাবে স্টল সরানো যায়নি। কাছাকাছি সংঘ পরিবারের একটি স্টল অক্ষত থাকার অভিযোগও উঠেছে।
- ঢাকুরিয়া ও অন্যান্য এলাকা: ঢাকুরিয়ায় সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের স্টল তৈরির সময় হামলার অভিযোগ, বিজপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নোয়াপাড়া, এন্টালি, শিবপুর, কুলপিসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাধা দেওয়া বা ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
- হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ: বনগাঁয়ে সিপিআই(এম) স্টল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে দ্বি-বেঞ্চে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। দলের পক্ষ থেকে আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে স্টল সরানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান: মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় বলেছিলেন, সিপিআই(এম) যদি ‘শারদোৎসব’ লেখে ‘দুর্গাপূজা’ না লেখে, তাহলে পূজা কমিটিগুলিকে স্টল দিতে নিষেধ করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এতে উৎসবের ধর্মীয় চরিত্র কমিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা নিজেরাই রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৫০০ থেকে ৫,০০০ বইয়ের স্টল তৈরির পরিকল্পনা করেছে (মোদী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, আরএসএস ও সরকারের কাজ নিয়ে বই)।
বামপন্থীদের প্রতিক্রিয়া: সিপিআই(এম) ও অন্যান্য বাম দল বলেছে, ১৯৫৪ সাল থেকে (মুজাফফর আহমেদের উদ্যোগে) এই ঐতিহ্য চলে আসছে। তারা অভিযোগ করেছে, বই ও জ্ঞানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো হচ্ছে এবং পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাদবপুরে প্রতিরোধের পর দল হাইকোর্টেও গেছে।
এদিকে, একই সময়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজায় (বিজেপি নিয়ন্ত্রিত কমিটি) ভিড়ে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। বামপন্থীরা প্রশ্ন তুলেছে, পদদলনের জায়গায় পুলিশ কম থাকলেও বইয়ের স্টল সরাতে পুলিশ-কেএমসি ব্যস্ত ছিল।
বিজেপি প্রতিনিধিরা হামলা ও অপসারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি এখন আদালত ও রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কে রয়েছে। পূজা চলাকালীন এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
