আধুনিক যুগে বিমান ভ্রমণের সময় ইন্টারনেট সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক যাত্রী কাজ করতে, ভিডিও কল করতে, স্ট্রিমিং দেখতে বা গেম খেলতে চান। কিন্তু পুরনো ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সিস্টেমগুলো প্রায়ই ধীরগতির, বাফারিং হয় এবং সমুদ্র মধ্যবর্তী এলাকায় কাজ করে না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এসেছে স্টারলিঙ্ক – স্পেসএক্স-এর (Elon Musk-এর কোম্পানি) লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক।
সাম্প্রতিককালে Scandinavian Airlines (SAS) স্টারলিঙ্ক-সংযুক্ত প্রথম ফ্লাইটের টেস্টিং করেছে, যা বিমান যাত্রায় ইন্টারনেটের এক নতুন মাইলফলক। স্টারলিঙ্ক হলো হাজার হাজার ছোট স্যাটেলাইটের একটি কনস্টেলেশন, যা পৃথিবীর কাছাকাছি অরবিটে (LEO) ঘুরছে। পুরনো স্যাটেলাইট সিস্টেম (যেমন GEO) থেকে এটি অনেক দ্রুত কারণ:লেটেন্সি (পিং) খুব কম – ২০-৫০ মিলিসেকেন্ড ডাউনলোড স্পিড ২০০-৪০০+ Mbps এমনকি ৫০০ Mbps পর্যন্ত, গেট-টু-গেট কানেকশন (বোর্ডিং থেকে ল্যান্ডিং পর্যন্ত) ওশেন, পোলার এরিয়া, উত্তর সাগরে নিরবিচ্ছিন্ন কভারেজ পাওয়া যাচ্ছে ।
বিমানের ছাদে একটি বিশেষ অ্যারো-টার্মিনাল (অ্যান্টেনা) লাগানো হয়, যা অ্যারোডাইনামিক (বায়ু প্রতিরোধ কম) এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী। এটি বিমানের ওয়াই-ফাই সিস্টেমের সাথে যুক্ত হয়ে যাত্রীদের হাই-স্পিড ইন্টারনেট দেয়।

১৪ ই জানুয়ারি ২০২৬-এ Flightradar24 একটি পোস্টে জানিয়েছে যে SAS-এর একটি Airbus A320 বিমানে স্টারলিঙ্ক-এর প্রথম অ্যাকটিভ টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে। এটি ছিল Copenhagen থেকে Copenhagen (ডেনমার্কের রাজধানী) একটি টেস্ট রুট।উচ্চতা: ৩৯,০০০ ফুট
স্পিড: ডাউনলোড ৪০৭ Mbps
পিং: ৫১ ms (অত্যন্ত কম লেটেন্সি)
এই টেস্ট ফ্লাইটটি SAS-এর পুরো ফ্লিটে স্টারলিঙ্ক রোলআউটের প্রথম ধাপ। SAS ২০২৫-এর শেষের দিকে এই প্রকল্প শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিল এবং ২০২৬-এর মাঝামাঝি বা শেষের দিকে বেশিরভাগ বিমানে (৯০%) এটি চালু করার পরিকল্পনা। কেন এই টেস্টিং Copenhagen-এ করা হলো? SAS-এর মূল হাব Copenhagen। এখান থেকে ইউরোপের ছোট-বড় ফ্লাইট চলে, এবং অনেক রুট North Sea, Atlantic বা পোলার এরিয়ার কাছাকাছি যায় – যেখানে পুরনো Wi-Fi খুব দুর্বল।Copenhagen-এর উচ্চ অক্ষাংশ (latitude) সত্ত্বেও স্টারলিঙ্কের পোলার কভারেজ স্যাটেলাইট আছে, যা এই এরিয়ায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেয়। টেস্ট ফ্লাইটটি ডোমেস্টিক (একই শহরের মধ্যে) রুটে করা হয়েছে যাতে নিরাপদে সিস্টেমের স্পিড, স্টেবিলিটি এবং রিয়েল-ওয়ার্ল্ড পারফরম্যান্স যাচাই করা যায়।
এই টেস্টিং-এর মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:পারফরম্যান্স যাচাই – উচ্চ উচ্চতায়, উচ্চ গতিতে স্পিড এবং লেটেন্সি কতটা ভালো।
নিরবচ্ছিন্ন কানেকশন – গেট থেকে গেট পর্যন্ত কোনো ড্রপ না হওয়া।
রিয়েল-ওয়ার্ল্ড টেস্ট – স্ট্রিমিং, ভিডিও কল, গেমিং, মাল্টি-ডিভাইস ব্যবহার চেক করা।
ফ্লিট রোলআউটের প্রস্তুতি – সমস্যা শনাক্ত করে ফিক্স করা, যাতে পুরো ফ্লিটে (A320, A330 ইত্যাদি) সফলভাবে ইনস্টল করা যায়।
যাত্রী অভিজ্ঞতা উন্নত করা – SAS EuroBonus মেম্বারদের জন্য ফ্রি হাই-স্পিড Wi-Fi দেওয়ার পরিকল্পনা। এটি ইউরোপের অন্যান্য এয়ারলাইন্সের (যেমন Air France) থেকে এগিয়ে থাকার চেষ্টা।
এই টেস্ট সফল হওয়ায় SAS ২০২৬-এর মধ্যে পুরো ফ্লিটে স্টারলিঙ্ক চালু করতে যাচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য এক বিপ্লব।স্টারলিঙ্ক বিমানে ইন্টারনেটকে ঘরের ব্রডব্যান্ডের মতো করে দিচ্ছে। SAS-এর Copenhagen টেস্ট ফ্লাইট প্রমাণ করেছে যে এটি শুধু তত্ত্ব নয়, বাস্তবে অসাধারণ। ভবিষ্যতে আরও অনেক এয়ারলাইন্স এটি গ্রহণ করবে, এবং বিমান যাত্রা আরও আরামদায়ক ও প্রোডাক্টিভ হয়ে উঠবে।আপনি কি স্টারলিঙ্ক-সহ ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন? কমেন্টে জানান!
