নয়াদিল্লি, ১৪ জানুয়ারি: দেশের পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল ভর্তি প্রক্রিয়ায় এক অভূতপূর্ব ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিকেল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস) গত ১৩ জানুয়ারি একটি অফিসিয়াল নোটিশ জারি করে নিট পিজি ২০২৫-এর তৃতীয় রাউন্ড কাউন্সেলিং-এর জন্য যোগ্যতার পার্সেন্টাইল কাটঅফ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের (MoHFW) ৯ জানুয়ারির চিঠির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিট পিজি ২০২৫ পরীক্ষা হয়েছিল গত ৩ আগস্ট, একই দিনে সিঙ্গেল শিফটে। প্রায় ২.৪২ লক্ষ প্রার্থী রেজিস্টার করেছিলেন, যার মধ্যে ২.৩০ লক্ষেরও বেশি উপস্থিত হয়েছিলেন। ফল প্রকাশিত হয় ১৯ আগস্ট। প্রথম রাউন্ড (অক্টোবর-নভেম্বর) ও দ্বিতীয় রাউন্ড (নভেম্বর-ডিসেম্বর) কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পরও দেশজুড়ে প্রায় ১৮,০০০-এরও বেশি এমডি, এমএস ও পিজি ডিপ্লোমা সিট ফাঁকা রয়ে গিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক খালি আসন পূরণ করার লক্ষ্যেই কাটঅফ এতটা নামানো হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুসারে, রিজার্ভড ক্যাটাগরি (এসসি/এসটি/ওবিসি)-এর জন্য কাটঅফ এখন ০ পার্সেন্টাইল। অর্থাৎ, পরীক্ষায় যারা -৪০ (নেগেটিভ ৪০) মার্কসও পেয়েছেন, তাঁরাও এখন তৃতীয় রাউন্ডে অংশ নিতে পারবেন। জেনারেল/ইডব্লিউএস ক্যাটাগরির জন্য কাটঅফ ৫০ থেকে নেমে এসেছে ৭ম পার্সেন্টাইলে (প্রায় ১০৩ মার্কস), আর জেনারেল পিডব্লিউডি-র জন্য ৪৫ থেকে ৫ম পার্সেন্টাইলে (প্রায় ৯০ মার্কস)। এনবিইএমএস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র কাউন্সেলিং-এ অংশগ্রহণের যোগ্যতার জন্য। মূল র্যাঙ্ক ও মেরিট লিস্ট অপরিবর্তিত থাকবে। সিট বণ্টন হবে র্যাঙ্ক ও পছন্দের ভিত্তিতে।এই সিদ্ধান্তের পর মেডিকেল কমিউনিটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেক ডাক্তার, অধ্যাপক ও সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতে মেডিকেল শিক্ষার মান ও রোগীর নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ডাক্তার প্রশ্ন তুলেছেন— “-৪০ মার্কস নিয়ে কীভাবে সার্জারি বা স্পেশালিস্ট চিকিৎসা করা যাবে? এটা কি মেরিটের পরিবর্তে শুধু সিট পূরণের খেলা?” অন্যদিকে, সরকারি কর্তৃপক্ষের যুক্তি— দেশে স্পেশালিস্ট ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে নন-ক্লিনিক্যাল ও কম চাহিদার বিষয়ে। ফাঁকা সিট নষ্ট না করে সেগুলি পূরণ করা দরকার।
আগের বছর (নিট পিজি ২০২৪)-এও তৃতীয় রাউন্ডে কাটঅফ কমানো হয়েছিল— জেনারেল-এ ৫০ থেকে ১৫ পার্সেন্টাইলে। কিন্তু এবার ফাঁকা সিটের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরিবর্তন আরও চরম। মোট পিজি সিটের সংখ্যা বছরে বছরে বাড়ছে (প্রায় ৭০,০০০+), কিন্তু জনপ্রিয় ব্রাঞ্চ ছাড়া অনেক কলেজে চাহিদা কম।তৃতীয় রাউন্ডের কাউন্সেলিং শীঘ্রই শুরু হবে। মেডিকেল কাউন্সেলিং কমিটি (এমসিসি)-র ওয়েবসাইট mcc.nic.in-এ নিয়মিত আপডেট দেখুন। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মেডিকেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। সরকারের লক্ষ্য সিট পূরণ, কিন্তু চিকিৎসক সমাজের প্রশ্ন— মানের সঙ্গে আপস করে কি দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে?
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
