কাঠমান্ডু থেকে ইস্তাম্বুলগামী তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানে ইঞ্জিন আগুনের সতর্কতা, কলকাতায় জরুরি অবতরণ

কাঠমান্ডু থেকে ইস্তাম্বুলগামী তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানে ইঞ্জিন আগুনের সতর্কতা, কলকাতায় জরুরি অবতরণ

কলকাতা, ৪ ফেব্রুয়ারি: নেপালের কাঠমান্ডু থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে উড়ে যাওয়া তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ইঞ্জিনে আগুনের সতর্কতা দেখা যাওয়ায় বিমানটিকে ভারতের কলকাতায় জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানে থাকা ২২৫-এরও বেশি যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা সকলে নিরাপদে রয়েছেন, কোনও আহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিমানটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ মডেলের, যা ২০১৬ সালে নির্মিত। এই ঘটনা আধুনিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে, যেখানে পাইলটদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের ফলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

english.pardafas.com ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা অনুসারে, তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর টিকে৭২৭ বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১:২৮ মিনিটে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের মাত্র চার মিনিট পরই বিমানের ডানদিকের ইঞ্জিনে আগুনের সতর্কতা দেখা যায়। পাইলটরা তৎক্ষণাত্‌ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানান এবং বিমানটিকে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ডান ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন। এরপর বিমানটিকে পশ্চিম আকাশে প্রায় ১০-১২ মিনিট ধরে ঘুরিয়ে রাখা হয়, যাতে জ্বালানি কমানো যায় এবং জরুরি অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়। নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (সিএএএন) জানিয়েছে, বিমানটি কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় দুপুর ৩:০৩ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানটি একমাত্র বামদিকের ইঞ্জিনের সাহায্যে ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব পাড়ি দিয়েছে, যা বিমানের নকশা এবং পাইলটদের দক্ষতার প্রমাণ।


এই ঘটনায় নিরাপত্তা প্রোটোকলের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক বিমানগুলিতে ইঞ্জিন ফেলিওরের ক্ষেত্রে একাধিক সতর্কতা ব্যবস্থা থাকে, যা পাইলটদের সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রে, পাইলটরা ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার করে বিমানটিকে কলকাতায় ডাইভার্ট করেন, যেখানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিত্সা দল প্রস্তুত রেখেছিল। অবতরণের পর বিমানটির একটি বিস্তারিত পরীক্ষা চলছে, যাতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণ চিহ্নিত করা যায়। তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

নেপালের বিমানবন্দর কর্মকর্তা টেক নাথ সিতৌলা জানান, বিমানটির উড্ডয়নের সময় কোনও সমস্যা ছিল না, কিন্তু আগুনের সতর্কতা উড্ডয়নের পর দেখা যায়।
এই ঘটনা বিমান চলাচলের ঝুঁকি এবং সেগুলি মোকাবিলার উপায়গুলিকে সামনে তুলে ধরেছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশে ইঞ্জিন ফেলিওরের ঘটনা ঘটেছে, যেমন ২০২৫ সালে ঢাকায় একটি তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানে পাখির ধাক্কায় ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা। তবে এই ক্ষেত্রে কোনও পাখির ধাক্কার খবর নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের উন্নতির ফলে এমন ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা খুব কম। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে কিছু আতঙ্ক দেখা গেলেও, পাইলটদের শান্ততা এবং দক্ষতার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর যাত্রীদের নিরাপদে নামানো হয়েছে এবং তাদের জন্য খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, যা বিশ্বের অন্যতম বড় এয়ারলাইন, এই ঘটনায় কোনও বিলম্ব না করে তদন্ত শুরু করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়।এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিমান চলাচল যতটা সুবিধাজনক, ততটাই নিরাপত্তা-নির্ভর। নেপাল এবং ভারতের বিমান কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের ফলে এই ঘটনা সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়।

যাত্রীদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু পাইলটরা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন।” এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিমান সংস্থাগুলিকে আরও সতর্ক হতে হবে। বিমানটির পরবর্তী যাত্রা কখন শুরু হবে, তা এখনও জানা যায়নি, কিন্তু তদন্তের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এই ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের মতো বড় সংস্থাগুলি সাধারণত উচ্চমানের রক্ষণাবেক্ষণ করে, তবু যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটতে পারে। এই ক্ষেত্রে, একক ইঞ্জিনে অবতরণ সফল হওয়ায় বিমানের ডিজাইনের প্রশংসা করা হচ্ছে। নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যৌথ তদন্ত করবে। কলকাতা বিমানবন্দরে এমন ডাইভারশনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব। যাত্রীদের জন্য এই ঘটনা একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হলেও, এটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি প্রদর্শন করে।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply