বাংলাকাল, ওয়েব ডেস্ক: উভয় বাংলা ( পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ) তীব্র মাত্রায় ভূমিকম্প। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ওপার বাংলায় নিহত ৬। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। জানা গেছে, পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শোকবার্তায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুরে আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
ভারতীয় সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মাটি থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের এপিসেন্টার।
তবে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী।
বলা বাহুল্য, ঘরের মধ্যে ফ্যান, চেয়ার, টেবিল দুলতে দেখা গিয়েছে। দেওয়ালে টাঙানো ছবিও দুলে উঠেছে কোথাও কোথাও। কলকাতা-সহ রাজ্যে শীতের আমেজ থাকায় অধিকাংশ বাড়িতেই সিলিং ফ্যান বন্ধ। ফলে সিলিং ফ্যান দেখে কম্পন আরও ভাল ভাবে বোঝা গিয়েছে ।
কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে সড়ক ও ফাঁকা স্থানে যান। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও ভূকম্পনের মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে এই ঘটনায় নিহতরা হলেন,
পুরান ঢাকার, রাফিউল ইসলাম (আনুমানিক ২০ বছর) , আবদুর রহিম (৪৮) ও তাঁর ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। রূপগঞ্জে ফাতেমা নামে ১০ মাসের এক শিশু মারা গেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষার্থী বলে পরিবার জানিয়েছে। আবদুর রহিমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রকোনায়। তিনি সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শোকবার্তায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আরেকজনের পরিচয় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
