ভরদুপুরে চেম্বারের ভিতর চিকিৎসককে খুন,অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ভরদুপুরে চেম্বারের ভিতর চিকিৎসককে খুন,অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদন: পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমানের বাদামতলায় মঙ্গলবার দুপুরে ভয়ংকর এক খুনের ঘটনায় স্তব্ধ শহর। জনবহুল এলাকায়, দিনের আলোয় নিজের চেম্বারের ভিতর খুন হলেন এক অর্থোপেডিক চিকিৎসক। রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান সদর থানার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে গোটা শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


নিহত চিকিৎসকের নাম রাজা ভৌমিক (বয়স আনুমানিক ৫০)। তিনি একজন পরিচিত অর্থোপেডিক প্র্যাকটিশনার এবং দীর্ঘদিন ধরে বাদামতলা এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে চেম্বারে একাই ছিলেন তিনি। সেই সময়ই অভিযুক্ত ব্যক্তি চেম্বারে ঢুকে তাঁর উপর হামলা চালায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম জীবন রুইদাস (বয়স আনুমানিক ২৭)। তাঁর বাড়ি শক্তিগড় থানার আমড়া এলাকায়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নিজেই বর্ধমান সদর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।


দিনের বেলা, ব্যস্ত শহরের মধ্যে—যেখানে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়—সেই এলাকায় এই ধরনের খুনের ঘটনা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক মহলেও তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


নিহত চিকিৎসকের ভাই রকি ভৌমিক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান। তিনি বলেন, “আমি পার্সেল ডেলিভারির কাজ করি। কাজের মধ্যেই বাড়ি থেকে ফোন আসে। জানানো হয় দাদা মারা গেছে, দাদাকে খুন করা হয়েছে। থানায় গেলে আইসি সাহেব জানান, সম্ভবত চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও বিষয় থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে”।


রকি ভৌমিকের দাবি, অভিযুক্তের পরিবারের এক সদস্যের চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই খুন। তিনি বলেন,
“যে দাদাকে খুন করেছে, তার ঠাকুমার চিকিৎসায় নাকি ভুল হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে দাদাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খোশবাগানের বাসিন্দা নাড়ু চৌধুরী জানান,
“আমি ট্রান্সপোর্টের কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি একজন লোক ডাক্তারবাবুর চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসছে। তার পোশাকে রক্ত লেগে ছিল। তখনই বুঝতে পারি বড় কিছু ঘটে গেছে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় চিকিৎসক সমাজে গভীর শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তার আইনি পথ রয়েছে—এইভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পিছনের পূর্ণ কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Facebook Comments Box
Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply