মালদহ, ২৮ অগস্ট:
বৌদির সঙ্গে দেওরের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নৃশংসভাবে খুনের পর রক্তাক্ত দেহ শোয়ার ঘরের খাটের তলায় ফেলে রেখে চম্পট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে ঘর থেকে তরুণী গৃহবধূর রক্তাক্ত ও নিথর দেহ উদ্ধার হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী এবং তাঁর বৌদিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজারের সাট্টারি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম শীলা বিবি। বয়স মাত্র ২৫ বছর। তাঁর বাপেরবাড়ি মালদহের মানিকচকে। বছর আটেক আগে ইংরেজবাজারের বাসিন্দা মোজাম্মিল মোমিনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক মোজাম্মিল ও শীলার সংসারে দুটি নাবালক পুত্রসন্তান রয়েছে। বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, শুক্রবার সকালে তাঁদের কাছে আচমকা ফোন যায় যে শীলা মারা গিয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ফোনে জানানো হয়নি। খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে বাপের বাড়ির বেশ কয়েকজন সদস্য মানিকচক থেকে ইংরেজবাজারে ছুটে আসেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, ঘরের ভিতর খাটের তলায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে শীলার দেহ। ফ্যান্সি বিবি নামে মৃতার এক আত্মীয়া জানান, ওদের দাম্পত্য জীবনে আগে কোনো সমস্যা ছিল না, সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন আগেই মোজাম্মিলের সঙ্গে তার নিজের বৌদির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন শীলা। এরপর থেকেই পরিবারে নিত্যদিন অশান্তি শুরু হয়। সেই ক্ষোভের জেরেই মোজাম্মিল তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
পারিবারিক সূত্রেও একই তথ্য সামনে এসেছে। বৌদির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণেই সংসারে কলহ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে দেন মোজাম্মিল। এরপর দেহটি খাটের তলায় ঢুকিয়ে রেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়ে মোজাম্মিলদের বাড়িতে যায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে মোজাম্মিল এবং তাঁর বৌদিকে গ্রেপ্তার করেছে। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে। কার হাতে সরাসরি এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে এবং এতে এক না একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
