কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর:
রাজ্যে দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন উপনির্বাচনের মুখে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস।বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত ঋতব্রত শিবিরের ১০ জন দলীয় বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন বা এসএলপি দায়ের করা হয়েছে।প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক তথা নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে এই আবেদন জানানো হয়েছে।দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধানসভার স্পিকার কেন ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, সেই প্রশ্ন তুলেই মূলত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূলের মূল শিবির।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের টিকিটে জিতে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে আগেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।এবার সেই পথ ধরেই রাজ্য বিধানসভার ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে নিশানা করল কালীঘাট শিবির।শীর্ষ আদালতে দায়ের করা পিটিশনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নাম রয়েছে। এই ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী বিধিমালার অধীনে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বাকি বিদ্রোহী বিধায়কদের বিষয়ে কালীঘাট শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, আপাতত ১০ জনের বিধায়কপদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে। বাকি বিধায়কদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, তাঁদের কিছুটা সুযোগ ও সময় দেওয়া হচ্ছে।তাঁরা যদি মূল স্রোতে ফিরতে চান, তবে ফিরে আসতে পারেন।তবে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে উত্তরবঙ্গের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।তিনি দাবি করেছেন যে পুজোর আগেই এনসিপিআই-এর ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার মন্তব্য করেছেন, ওই সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান বর্তমানে চরম সংকটে। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতা চাইছিলেন।
সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী দলত্যাগের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন থাকা বাধ্যতামূলক। জহর সরকারের মতে, মোট ২৮ জন সাংসদের নিরিখে দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ জন।ফলে ১৭ জনকে নিয়ে দলবদল করতে গেলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ৩ জন মুসলিম সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে বিধানসভা ও সংসদ উভয় ক্ষেত্রেই আইনি জটিলতা চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

