ডেস্ক নিউজ,ইনামুল ভুূঁইয়া
ইস্তফা দিলেন ইংরেজবাজারের পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। বুধবার দুপুরে বোর্ড অফ কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠকের পরই পুরপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন মালদহের তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু।
ইস্তফার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, “কাজ করতে পারছিলাম না।” তবে শুধু পদত্যাগ নয়, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ইস্তফার পর কৃষ্ণেন্দু বলেন, “আগামী দিনে বড় ছাতার তলায় থাকব। রাজনীতির জন্য জেলে গিয়েছি, আহত হয়েছি। ভয় পাইনি কোনও দিন, আজও ভয় পাই না। পরিস্থিতির উপর বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এর আগে মঙ্গলবারই কৃষ্ণেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের হয়ে আর কোনও দিন ভোটে লড়বেন না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেও তিনি ভোটে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন।
তাঁর কথায়, “যেমন ভাবে বৃষ্টি হবে, তেমন ভাবে ছাতা ধরব। কিন্তু তৃণমূলের হয়ে লড়ব না।”
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অবশ্য সময়ের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন ইংরেজবাজার পুরসভার পাঁচ বারের পুরপ্রধান। কৃষ্ণেন্দুর কথায়, “সময় কথা বলবে। যেমন পরিস্থিতি আসবে, তেমন চলবে।”
দীর্ঘদিন ধরে মালদহের জেলা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কৃষ্ণেন্দুর। বাম আমলেও কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রেখেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রী এবং একাধিকবার ইংরেজবাজারের পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন।
তবে এবার পুরপ্রধানের পদ থেকে তাঁর ইস্তফায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ইংরেজবাজার পুরসভায় এখনও তৃণমূলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
এখন নজর থাকবে, কৃষ্ণেন্দুর সেই ‘বড় ছাতা’ আসলে কোন রাজনৈতিক আশ্রয়—তা নিয়ে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
