নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গোমাংস খাওয়ানোর মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভাবমূর্তি নষ্ট করার বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ওমর রশিদ। এক মহিলা আইনজীবী এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসিত ও সুপরিকল্পিত প্রচার চালানোর অভিযোগ এনে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত আইনি প্রতিকারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ওমর রশিদ বনাম এক্স এবং অন্যান্য’ শীর্ষক এই দেওয়ানি মানহানির মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি শচীন দত্তের বেঞ্চের তালিকাভুক্ত হয়েছে। সাংবাদিকের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী আদিত এস পূজারী। জরুরি পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অবিলম্বে নোটিস জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় অ্যাকাউন্ট থেকে ওমর রশিদের বিরুদ্ধে চরম হেনস্থা, ধর্ষণ এবং জোর করে গোমাংস খাওয়ানোর মতো মারাত্মক সব অভিযোগ তুলে একের পর এক পোস্ট করা হয়। অভিযোগকারী মহিলা নিজেকে আইনজীবী দাবি করে প্রচার করেন যে, তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং সম্পর্কের কথা গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।
ওমর রশিদ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই অশুভ চক্রান্ত রচনা করা হয়েছিল। তাঁর পরিচয় ও পেশাগত অবস্থানকে কালিমালিপ্ত করতেই সচেতনভাবে কাশ্মীর, লাভ জিহাদ এবং গোমাংসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে ওই পোস্টগুলোতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে একটি সম্প্রদায়ের চোখে দানব হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়া।
এই মিথ্যা প্রচারের জেরে তিনি ব্যক্তিগত, পেশাগত এবং আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন ওমর রশিদ। তিনি জানান, সরকারি তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কারণেই এতদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। অথচ ওই পোস্টগুলি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে প্রতিনিয়ত খুনের হুমকি, গণপিটুনির হুঁশিয়ারি এবং চরম সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি তাঁর প্রয়াত মা-কেও কদর্য আক্রমণের নিশানা করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার কারণে দেশ-বিদেশ থেকে হুমকিবার্তা আসতে থাকে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বেআইনি লেনদেনের চেষ্টাও চালানো হয়।
এর আগে ওই বেনামী সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতেই একটি সংগঠনের কর্মকর্তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো সারবত্তা ও ভিত্তি না মেলায় মানবাধিকার কমিশন মামলাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। কমিশন তার চূড়ান্ত আদেশে জানিয়েছিল, এই বিষয়ে আর কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। সেই স্বস্তির পরই এবার ভিত্তিহীন অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি লড়াইয়ে নামলেন ওমর রশিদ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
