কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর:
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক দেশ, এক পড়ুয়া পরিচয়’ ভাবনার অংশ হিসেবে এ বার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে ১২ সংখ্যার অনন্য ‘আপার আইডি’ বা অটোমেটেড পার্মানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি তৈরির প্রক্রিয়া। নির্দেশিকা পাওয়ার পর নদিয়া জেলার তেহট্ট ১ ও ২ চক্রের পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাগত নথি একটি মাত্র নির্দিষ্ট পরিচয়ে নিয়ে আসাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আধার কার্ডের আদলে তৈরি হতে চলা এই স্থায়ী আইডিতে যুক্ত করা যাবে পড়ুয়াদের প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল, মার্কশিট, সার্টিফিকেট ও অর্জিত ডিগ্রি। ইউডাইস প্লাস পোর্টালের ‘স্টুডেন্ট মডিউল’-এ গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের সব প্রয়োজনীয় নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে এই আইডি তৈরি করতে হবে। এত দিন রাজ্যে ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে এই সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকলেও, এখন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই নতুন আইডি তৈরির নির্দেশ এসেছে।
এই নতুন দায়িত্ব সামলাতে সোমবার থেকেই তেহট্টে শুরু হচ্ছে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্ব। প্রথম দফায় প্রযুক্তি-দক্ষ শিক্ষকদের ট্রেনিং দিয়ে পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রতিটি তথ্য নিখুঁতভাবে পরীক্ষা ও পোর্টালে আপলোড করার কাজটি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ হওয়ায় এতে শিক্ষকদের কিছুটা বাড়তি সময় ও পরিশ্রম লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বেতাই পরিমল বাগচি স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বুদ্ধদেব ঘোষ ও স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, এত বিপুল পরিমাণ তথ্য আপলোড করার কাজটি বেশ সময়সাপেক্ষ হলেও শিক্ষার্থীদের সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করলে এটি একটি আদর্শ ও যুগোপযোগী উদ্যোগ। অন্য দিকে অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এই প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে। তবে শিক্ষক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমানে উঁচু ক্লাসে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আগের ক্লাসের যাবতীয় তথ্য এই আইডিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে না।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

