কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর:
ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি, ভোটার তালিকায় নাম এবং এমনকি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের এক মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় ও নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং কাজের সূত্রে বাইরে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কাছে বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, আধার কার্ড এবং সরকারি নির্বাচনী নথিপত্র রয়েছে। এমনকি তিনি দেশের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে কোনো যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী ও বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের নিয়মিতভাবে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে এবং তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে। সমস্ত নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক আচরণ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের কাছে বৈধ নথিপত্র পেশ করলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, উপযুক্ত অনুসন্ধান ছাড়া কেবলমাত্র ভাষার ভিত্তিতে বা সন্দেহের বশে ভারতীয় নাগরিককে বিদেশি দাগিয়ে দেওয়া মৌলিক অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। অবিলম্বে ওই শ্রমিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
