কল্যাণী, ২৯ আগস্ট:
নদিয়ার কল্যাণী শহরে সিপিএমের বর্ধিত রাজ্য অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বাম ও বিজেপি শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টক্কর চরমে উঠল। দলের সাংগঠনিক অবস্থান ও রাজনৈতিক অভিমুখ স্পষ্ট করতে কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে দু’দিনের বর্ধিত অধিবেশনে বসেছে সিপিএম। ঠিক সেই সময়ই সভাস্থলের সামনে বিজেপির তোরণ এবং শহর জুড়ে পাল্টা প্রচারকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সম্মুখসমরের আবহ তৈরি হয়েছে।
অধিবেশন উপলক্ষে কল্যাণী শহরের নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নামে এবং অধিবেশন প্রেক্ষাগৃহ ঋত্বিক সদনের নাম দেওয়া হয়েছে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে। তবে কল্যাণী স্টেশনে নামলেই চোখে পড়ছে লাল পতাকার পাশাপাশি পদ্ম শিবিরের ব্যানার ও হোর্ডিংয়ের ভিড়।
সিপিএমের অধিবেশনস্থলের ঠিক সামনেই বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার ‘দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাভিযান’-এর ব্যানার লাগানো বিরাট তোরণ তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে শহর জুড়ে একদিকে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবির সঙ্গে অন্যদিকে সীতারাম ইয়েচুরি ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবির এক দৃশ্যমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘রাম বনাম বাম’ লড়াই হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্রের খবর, দলের অভ্যন্তরে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বর্তমান রাজনীতিতে বিষয়টি আর ‘লেফট-রাইট’ নয়, বরং সরাসরি ‘লেফট ভার্সেস রাইট’। সেই অনুযায়ী কর্মীদের সংগঠনকে আন্দোলনের ময়দানে নামানোর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
বর্ধিত অধিবেশনের সাংগঠনিক খসড়ায় সেলিম জোর দিয়েছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির লড়াইয়ে দলকে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার ওপর। অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলকেই আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারে গণআন্দোলনকেই প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
