কলকাতা, ৭ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বড়সড় সংশোধনী আনতে চলেছে। বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে ‘পঞ্চায়েত (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (প্রধান), উপ-প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি পদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নির্বাচনের পর প্রথম তিন বছর অবিশ্বাস প্রস্তাবের (no-confidence motion) মাধ্যমে অপসারণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
সরকারি দাবি অনুযায়ী, এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অবিশ্বাস প্রস্তাবের অপব্যবহার রোধ করা। বিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের পর তিন বছরের মধ্যে এই পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস প্রস্তাব আনা যাবে না। ফলে কোনও পঞ্চায়েত সদস্য বা সদস্যা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান, তবুও তিন বছর পর্যন্ত ওই ব্যক্তি পদে বহাল থাকতে পারবেন। সরকারের যুক্তি, এতে স্থানীয় উন্নয়নের কাজে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন। বিলে আরও বলা হয়েছে, এই সংশোধনীর কোনও আর্থিক প্রভাব পড়বে না।এই বিলের প্রস্তাবনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এটিকে গণতন্ত্রের উপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
তাদের অভিযোগ, এই সংশোধনী দিয়ে সরকার কার্যত ‘অপসারণ-অযোগ্য’ পদ তৈরি করতে চাইছে, যা স্থানীয় স্তরে দলত্যাগ, জোর করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং দায়বদ্ধতাহীন শাসনকে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে বিরোধীরা ‘একদলীয় শাসনকে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।সামাজিক মাধ্যমে এই বিল নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে এটিকে ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু’ বলে মন্তব্য করেছেন। একাধিক পোস্টে বলা হয়েছে, “যদি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান, তবুও তিন বছর ক্ষমতায় থাকবেন—এটা কি গণতন্ত্র?” বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ধরনের সংশোধনী স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মূল চেতনার পরিপন্থী।এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, অতীতে দেখা গিয়েছে অবিশ্বাস প্রস্তাবকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হয়েছে। তাই এই সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ কাজ করতে পারেন।বিলটি বিধানসভায় পেশের পরই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এই সংশোধনী নিয়ে আরও তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক হবে। বিশেষ করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।