বাঁকুড়া, ৬ সেপ্টেম্বর:
বাঁকুড়ায় বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এক মহিলার উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। নিগৃহীতাকে ধর্ষণের পাশাপাশি বেধড়ক মারধর এবং জোর করে টাকা আদায় করার মারাত্মক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। রবিবার ধৃত দু’জনকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল কয়েক দিন আগে। বিকেলে নিজের এক বন্ধুর সঙ্গে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া হরিয়ালগাড়া এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। অভিযোগ, নির্জন সেই এলাকায় পৌঁছে আচমকাই একদল দুষ্কৃতীর খপ্পরে পড়েন তাঁরা। দুষ্কৃতীরা পথ আটকে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। সেখানে ওই মহিলাকে চরম হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা ওই মহিলাকে কেবল শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণই করেনি, তাঁকে শারীরিকভাবে বেধড়ক মারধরও করা হয়। এর পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় অর্থাৎ তোলাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন নির্যাতিতা ও তাঁর সঙ্গী।
পরবর্তীকালে এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বাঁকুড়া সদর থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা মহিলা। তিনি কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, শারীরিক নিগ্রহ ও বলপূর্বক অর্থ আদায়ের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ বাহিনী।
অভিযোগের ভিত্তিতে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে পাকড়াও করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মারধর, তোলাবাজি এবং ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির মতো অত্যন্ত জামিন-অযোগ্য গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।
রবিবার ধৃত দুই অভিযুক্তকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে তাদের জামিনের জন্য সওয়াল করেন আইনজীবীরা। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব ও মামলার গুরুত্ব বিচার করে আদালতের পক্ষ থেকে ধৃতদের জামিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বা জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদালত চত্বরে অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক বিশ্বাস জানান, মামলায় মারপিট, তোলাবাজি ও ধর্ষণের মতো গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ আদালতের বিচারাধীন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পুরো চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত জারি রাখা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

