সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে যে, ইরানে আমেরিকা সামরিক হামলা চালাতে পারে। এই আশঙ্কার মধ্যেই ইসরায়েল তাদের বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড (TRT World)-এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মারিভ’ (Maariv)-এর মাধ্যম দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিশেষ করে দেশটির বিমান বাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং নর্দান কমান্ড বা উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে, সাধারণ নাগরিকদের জন্য বা ‘হোম ফ্রন্ট’-এর প্রস্তুতির স্তরে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের জন্য এখনই কোনো বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, সতর্কতাটি মূলত সামরিক স্তরেই সীমাবদ্ধ।
মারিভের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনাবাহিনী যে কোনো মুহূর্তে তেহরানের ওপর হামলা চালাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইসরায়েল আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (US Central Command) সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। আমেরিকা যদি ইরানে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইসরায়েল যাতে প্রস্তুত থাকে এবং প্রয়োজনে সহায়তা করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই সমন্বয় করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সামরিক উত্তেজনার পেছনের কারণ হিসেবে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে দেখা হচ্ছে। গত মাসের শেষ দিক থেকে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই বিক্ষোভ বা তাদের ভাষায় ‘দাঙ্গা’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর পেছনে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাত রয়েছে। তারা মনে করছেন, পশ্চিমারা ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটতে চাইছে।
ইরানে চলমান এই বিক্ষোভে কতজন মানুষ মারা গেছেন, তার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (Human Rights Activists News Agency)-এর মতে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও আন্দোলনকারী মিলিয়ে ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই বিশাল প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরান সরকার আমেরিকার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছে, ওয়াশিংটন সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে জানিয়েছে যে, আমেরিকার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সরকার পরিবর্তন করা।
ইরানি মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলো সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির কৌশল।” তারা আরও বলেছে যে, ওয়াশিংটনের এই পুরোনো কৌশল বা ‘প্লেবুক’ আবারও ব্যর্থ হবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায় ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তার এই মন্তব্যের পরই সামরিক হামলার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
