রিয়াদ, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গাজা স্ট্রিপের অস্থায়ী প্রশাসনের জন্য ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটি (National Committee for the Administration of Gaza) গঠন করা হয়েছে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৮০৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি অস্থায়ী সংস্থা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দ্বিতীয় পর্যায় গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় সহায়তা করবে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং ‘পিস কাউন্সিল’ (Board of Peace) গঠনের প্রশংসা করা হয়েছে। এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই রয়েছেন এবং এতে মার্কো রুবিওসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত। কাউন্সিল গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার, ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের কোনো অংশের সংযোজন রোধ এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথ প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।সৌদি আরব মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো—কাতার, মিশর এবং তুরস্কের—প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এই দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে যে, গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের মধ্যে ভৌগোলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং গাজাকে বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হবে।এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজায় পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন কাজ শুরু এবং মানবিক সাহায্যের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের রেজোলিউশন ২৮০৩ (২০২৫ সালের নভেম্বরে গৃহীত) এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (International Stabilization Force) মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। এই বাহিনী গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা করবে।
এদিকে, এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে ফিলিস্তিনি ঐক্য ও শান্তির আশায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন যে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও ধ্বংসের পর এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গাজার মানবিক সংকট এখনও অব্যাহত, এবং লাখ লাখ মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছেন।সৌদি আরবের এই অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টায় রিয়াদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরে। দেশটি দুই-রাষ্ট্র সমাধান, আরব শান্তি উদ্যোগ এবং জাতিসংঘের সকল প্রাসঙ্গিক রেজোলিউশনের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দ্বিতীয় পর্যায় যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

