কলকাতা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা (Kwara) রাজ্য এবং উত্তরাঞ্চলীয় কাৎসিনা (Katsina) রাজ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (Organization of Islamic Cooperation – OIC)।
ওআইসি’র মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (Hissein Brahim Taha) এক বিবৃতিতে এই হামলাকে “জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নাইজেরিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রেড ক্রস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোয়ারা রাজ্যের ওরো (Woro) ও নুকু (Nuku) গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের বেঁধে ফেলে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে এবং অনেককে আগুনে পুড়িয়ে মারে। বাড়িঘর, দোকান ও রাজপ্রাসাদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই হামলায় অন্তত ১৬২ থেকে ১৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে কাৎসিনা রাজ্যের ডোমা (Doma) এলাকায় আরেকটি হামলায় ২১ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এর কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় কর্মকর্তা ও গভর্নর আব্দুলরহমান আব্দুলরাজাক এই হামলাকে “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দুর্বলতার প্রকাশ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত লাকুরাওয়া (Lakurawa) গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকতে পারে। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলা হয়েছে বোকো হারাম জড়িত থাকতে পারে।
এই ঘটনার পর ওআইসি’র অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে @OIC_OCI প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নাইজেরিয়ার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“আমরা নাইজেরিয়ার কোয়ারা ও কাৎসিনা রাজ্যে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম তাহা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। ওআইসি নাইজেরিয়া সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।”
নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারাম, আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং স্থানীয় সশস্ত্র ব্যান্ডিট গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের হামলা, অপহরণ ও লুণ্ঠন নিয়মিত ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর প্রতিশোধমূলক হামলার সংখ্যা বেড়েছে।
