মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানী কর্তৃপক্ষ যদি কয়েকজন আন্দোলন কারীকে ফাসির রায় কার্যকর করে, তাহলে তিনি অজ্ঞাতপূর্ব “খুবই কঠোর পদক্ষেপ” নেবেন। এর জবাবে তেহরান মার্কিন সতর্কতাকে “সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত” বলে অভিহিত করেছে।
ট্রাম্প — যিনি এর আগে ইরানের আন্দোলন কারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে “সাহায্য আসছে” — মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে।
তেহরানের প্রসিকিউটররা বলেছেন যে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া কিছু সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে “মোহারেবেহ” বা “আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ” চালানোর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের অভিযোগ আনা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তারা যদি এমন কিছু করে তাহলে আমরা খুবই কঠোর পদক্ষেপ নেব।” তিনি বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, “যখন তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে শুরু করে — এবং এখন আপনি আমাকে ফাঁসির কথা বলছেন। দেখা যাক এটা তাদের জন্য কীভাবে কাজ করে।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তার ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে বলেছে যে, ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে বুধবার ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, “এরফান প্রথম বিক্ষোভকারী যার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি শেষ নন।” এছাড়া এতে বলা হয়েছে যে ১০,৬০০-এরও বেশি ইরানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের জাতিসংঘ মিশন এক্স-এ এক বিবৃতি পোস্ট করে বলেছে যে ওয়াশিংটনের “খেলা” আবার ব্যর্থ হবে।
পোস্টে বলা হয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের প্রতি কল্পনা এবং নীতি শাসন পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, কৃত্রিম অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।”
ইরানী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য নিহত হয়েছে এবং তাদের জানাজা বড় বড় সরকারপন্থী সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
তেহরানের কর্তৃপক্ষ বুধবার রাজধানীতে সাম্প্রতিক দিনগুলোর “শহীদদের” জন্য একটি ব্যাপক জানাজার অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে সরকার বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে দমন-পীড়নের মাত্রা ঢেকে রেখেছে, যা এখন পাঁচ দিন অতিক্রম করেছে।
ইরানী কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে তারা সারাদেশে টানা কয়েক রাতের ব্যাপক বিক্ষোভের পর দেশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।

