নাগপুরের বিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রীকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগ, বিদ্যালয় সচিবের বিরুদ্ধে এফআইআর।

নাগপুরের বিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রীকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগ, বিদ্যালয় সচিবের বিরুদ্ধে এফআইআর।

নাগপুরের দয়ানন্দ আর্য কন্যা বিদ্যালয়ের সচিব রাজেশ লালওয়ানির বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ের এক ছাত্রীর ভর্তি ইচ্ছাকে ধর্মীয় কারণে নাকচ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া যাবে না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমন মাসান্দ এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ড. গীতা হারওয়ানিকে জানান। অভিযোগ অনুসারে, মে ৮ তারিখে ছাত্রীর পরিবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানোর জন্য বিদ্যালয়ে আসে। তখন অ্যাডমিশন ইনচার্জ অনিতা আর্য পরিবারকে জানায় যে আসন খালি নেই।

তবে সুমন মাসান্দ যখন বিষয়টি সম্পর্কে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের কাছে জানতে চান, তখন রাজেশ লালওয়ানির এক বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তিনি নাকি স্পষ্টভাবে বলেন, মুসলিম মেয়েদের ভর্তি করানো হবে না। সুমনের দাবি অনুযায়ী, এই ধর্মভিত্তিক বৈষম্যের একটি অডিও রেকর্ডিংও রয়েছে, যা তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে জমা দেন।

এরপর প্রধান শিক্ষিকা নিজেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন এবং ছাত্রীর পরিবারকেও বিষয়টি জানান।

জারিপটকা থানার পুলিশ রাজেশ লালওয়ানি, অ্যাডমিশন ইনচার্জ সিমরন জ্ঞানচাঁদানি এবং শিক্ষিকা অনিতা আর্যার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু করে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ কাজের জন্য প্রযোজ্য।

১৩ মে অভিযোগটি মহারাষ্ট্র সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে পাঠানো হলে, জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে তদন্ত করতে আসেন।

এই ঘটনার পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ছাত্রীর পরিবারকে জানানো হয় যে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।


Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply