মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি
ওয়েব ডেস্ক, বাংলাকাল:
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত আরও একবার ভয়াবহ মোড় নিল। হরমুজ প্রণালীর জলসীমায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর সামনে এসেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC দাবি করেছে, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী ও একটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলি হামলা এড়িয়ে গেছে এবং কোনও মার্কিন সেনা হতাহত হননি।
এর পরেই পাল্টা পদক্ষেপ নেয় আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা CENTCOM জানিয়েছে, ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এর মধ্যে দুটি জাহাজকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয় একটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরেই মূল সংঘাত
বর্তমান উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের এই জলপথ নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে।
মার্কিন বাহিনী ইরানের তেল পরিবহণে বাধা তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে তেহরানের অভিযোগ। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলির একটি অংশ এমন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত, যা ইরানের IRGC এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থ জোগাতে সাহায্য করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তেলবাহী জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকা।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
মার্কিন হামলার পর ইরানের IRGC-ও কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে তারা লক্ষ্য করেছে এবং মার্কিন-সংযুক্ত কিছু জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে—আমেরিকা যদি ইরানের জাহাজ চলাচলে হস্তক্ষেপ ও হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে মার্কিন সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলা চালানো হতে পারে।
তবে ইরানের মার্কিন জাহাজে পাল্টা হামলার দাবিগুলি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে কোন জাহাজ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে এখনও দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ও পরে সেটি ডুবে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা হলে তার জবাব আরও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মাধ্যমে দেওয়া হবে।
তেলের বাজারেও চাপ
হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও দামের উপর চাপ বাড়তে পারে।
Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে Brent crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬.২৮ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে?
একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি, অন্যদিকে আমেরিকার তেলবাহী জাহাজে হামলা—পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত আরও বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই মুহূর্তে ইরান ও আমেরিকার পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের দিকে নজর গোটা বিশ্বের।
বাংলাকাল | ওয়েব ডেস্ক
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

