আইন অমান্য অশান্তির অভিযোগ, চুঁচুড়ায় গ্রেপ্তার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক

আইন অমান্য অশান্তির অভিযোগ, চুঁচুড়ায় গ্রেপ্তার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক

চুঁচুড়া, ২৫ আগস্ট:

আইন অমান্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ। সোমবার রাতে চুঁচুড়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই গ্রেপ্তারি করা হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে বাম শিবির।

জানা গিয়েছে, গত ১০ আগস্ট হুগলির চুঁচুড়া ঘড়ির মোড় এলাকায় বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটুর একটি আইন অমান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হুগলির জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিপুল সংখ্যক বাম কর্মী ও সমর্থক জমায়েত হয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীরা যাতে কোনওভাবেই জেলাশাসকের দপ্তরে প্রবেশ করতে না পারেন, তার জন্য আগে থেকেই গোটা এলাকা ব্যারিকেড করে দিয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযোগ, সেই দিন পুলিশের তৈরি করা ব্যারিকেড ভেঙে জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে জোর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাম কর্মী-সমর্থকরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘড়ির মোড় এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একসময় বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে বলে জানা যায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই খণ্ডযুদ্ধে বেশ কয়েকজন বাম কর্মী-সমর্থক আহত হন। পাশাপাশি দুজন পুলিশ কর্মীও জখম হয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। ওই দিনই ঘটনাস্থল থেকে চল্লিশ জনের বেশি বাম কর্মী ও সমর্থককে আটক করেছিল পুলিশ। পরে রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও পরের দিন ধৃত ওই চারজনকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

পুরনো সেই ঘটনার রেশ ধরেই এবার উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে গ্রেপ্তার করা হল। সোমবার রাতে উত্তরপাড়ায় তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। প্রাক্তন বিধায়ক ছাড়াও এই একই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সিপিএমের আরও দুই কর্মী দীপক চক্রবর্তী ও অনুপম চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের দুজনেরই বাড়ি কোন্নগর এলাকায়। এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় স্থানীয় সিপিএম নেতা ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পুলিশ বর্তমানে বিজেপির দলদাস হিসেবে কাজ করছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply