হিমালয়ে বাড়ছে হিমবাহ বিপর্যয়ের ঝুঁকি, সতর্কবার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

হিমালয়ে বাড়ছে হিমবাহ বিপর্যয়ের ঝুঁকি, সতর্কবার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

লেপাল, ৩ সেপ্টেম্বর:

হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও হিমবাহ হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই অঞ্চলে ঘনঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মেলার পরেই এই সতর্কবার্তা সামনে এসেছে।

কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে নেপালের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। হিমবাহ গলে বিপজ্জনকভাবে জমে থাকা হ্রদগুলি ফেটে নীচের জনপদ নিমেষের মধ্যে ভেসে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল জাতীয় স্তরে নয়, অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি জোরালো সওয়াল করেন।

বিজ্ঞানীদের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত কয়েক দশকে নেপাল হিমালয়ের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিপজ্জনক গতিতে সঙ্কুচিত হচ্ছে বিশালাকার হিমবাহগুলি এবং তৈরি হচ্ছে শত শত নতুন হিমবাহ হ্রদ। যেকোনো সময় প্রাকৃতিক কারণে বা ভূমিকম্পের জেরে হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নেমে আসতে পারে ভয়াবহ প্লাবন, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই ধরণের দুর্যোগের তীব্রতা এবং পৌনঃপুনিকতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। বিশেষ করে পাহাড়ি উপত্যকায় বসবাসকারী দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ওপর এর আঘাত সবচেয়ে বেশি পড়বে। তাই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন নীতি গ্রহণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর দেশকে এই পরিবর্তনের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ধনী দেশগুলির আর্থিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দাবি করে তিনি বলেন, হিমালয়কে রক্ষা না করলে তার প্রতিক্রিয়া গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নদী অববাহিকা ও কোটি কোটি মানুষের অস্তিত্বের ওপর পড়বে।

হিমবাহ বিপর্যয় রোধে আঞ্চলিক পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদান এবং উপগ্রহ মারফত নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আসন্ন দিনগুলিতে পাহাড়ি নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি ও পাহাড় ধসের ঘটনা আরও প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply