ইশান কিষানের দুরন্ত শতরান, ডুলিপ ট্রফির ফাইনালে চাপে দক্ষিণ জোন

ইশান কিষানের দুরন্ত শতরান, ডুলিপ ট্রফির ফাইনালে চাপে দক্ষিণ জোন

ইশান কিষানের সেঞ্চুরিতে দাপট, ডুলিপ ট্রফির ফাইনালে প্রথম দিনেই দক্ষিণ জোনকে চাপে ফেলল ইস্ট জোন

ওয়েবডেস্ক: চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ডুলিপ ট্রফি ২০২৬-২৭-এর ফাইনালের প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিল ইস্ট জোন। অধিনায়ক ইশান কিষানের দুর্দান্ত অপরাজিত শতরান এবং টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে দিনের শেষে ইস্ট জোনের স্কোর ৩৮৫/৪। ইশান ১১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন, তাঁর সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন কুমার কুশাগ্রা, অপরাজিত ৬৩ রানে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত ইশানের

রবিবার ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইস্ট জোনের অধিনায়ক ইশান কিষান। চেন্নাইয়ের চিপকে শুরু থেকেই ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অনুকূল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরুটা দারুণ করেন তরুণ বৈভব সূর্যবংশী ও অভিমন্যু ঈশ্বরন।

দুই ওপেনার মিলে ১০০ রানের ওপেনিং জুটি গড়ে ইস্ট জোনকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সী বৈভব শুরুতে সাবধানে খেললেও পরে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেন। মাত্র ৩৭ বলে তাঁর ৪৪ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছয়। মোহাম্মদ সিরাজের একটি ওভারে চার, ছয়, চার মেরে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। শেষ পর্যন্ত চামা মিলিন্দের বলে তাঁর ইনিংস শেষ হয়।

অর্ধশতরানের পর ৭২-এ থামলেন ঈশ্বরন

অন্য প্রান্তে অভিমন্যু ঈশ্বরন দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান। মাত্র ৪৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৬ বলে ৭২ রান করে রান-আউট হয়ে ফেরেন ঈশ্বরন।

তাঁর বিদায়ের সময় ইস্ট জোনের স্কোর ছিল ১৩৩/২। এরপর ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শিখর মোহন।

অভিষেকেই নজর কাড়লেন শিখর মোহন

ডুলিপ ট্রফির ফাইনালে অভিষেক হওয়া শিখর মোহন অসাধারণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করেন। স্পিনারদের বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি এবং ১২০ বলে ৮৫ রান করেন।

ইশান কিষানের সঙ্গে তাঁর জুটি ইস্ট জোনকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। দু’জনে মিলে চতুর্থ উইকেটে ৯৪ রান যোগ করেন। কিন্তু শতরানের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ৮৫ রানে থামতে হয় শিখরকে। চামা মিলিন্দের বলে ব্যাটে লেগে বল স্টাম্পে গিয়ে পড়লে তাঁর ইনিংস শেষ হয়।

এরপর ইশান-কুশাগ্রার ব্যাটিং ঝড়

শিখর মোহনের আউটের পর ইস্ট জোনের স্কোর দাঁড়ায় ২৪১/৪। এই পরিস্থিতি থেকে অধিনায়ক ইশান কিষান ও কুমার কুশাগ্রা ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন।

শেষ সেশনে দক্ষিণ জোনের বোলারদের উপর কার্যত ঝড় বইয়ে দেন দুই ব্যাটার। ইশান একদিকে ইনিংসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এগিয়ে যান, অন্যদিকে কুশাগ্রা স্পিনারদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন।

দু’জনে মিলে মাত্র ১৬০ বলে ১৪৪ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপ গড়ে দিনের খেলা শেষ করেন।

দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ইশানের

দিনের শেষদিকে ইশান নিজের শতরান পূর্ণ করেন। ১৩৫ বলে ১১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৪টি চার ও একটি ছয়—অন্য একটি নির্ভরযোগ্য ম্যাচ রিপোর্টেও তাঁর ১১১ রানের ইনিংস ও ১৪টি চার, একটি ছয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এই ইনিংসের মাধ্যমে ইশান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪,০০০ রান পূর্ণ করেন এবং তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শতরানের সংখ্যা ১০-এ পৌঁছেছে।

চাপে দক্ষিণ জোনের বোলিং আক্রমণ

ইস্ট জোনের ব্যাটিংয়ের সামনে দক্ষিণ জোনের বোলাররা দিনের বেশিরভাগ সময়ই চাপ তৈরি করতে পারেননি। মোহাম্মদ সিরাজ ১৪ ওভারে ৯৬ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। তাঁর বোলিংয়ের ইকোনমি ছিল প্রায় ৬.৯০ রান প্রতি ওভার

চামা মিলিন্দ দক্ষিণ জোনের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার—১৩ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে তিনি দুটি উইকেট নিয়েছেন। ত্রিপুরানা বিজয় ২২ ওভারে ১১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট পান।

প্রথম দিন শেষে ইস্ট জোনের দাপট

দিনের শেষে ৭৯ ওভারে ৩৮৫/৪ স্কোর করে ইস্ট জোন। ক্রিজে অপরাজিত ইশান কিষান ১১১ এবং কুমার কুশাগ্রা ৬৩।

দক্ষিণ জোন এখনও ব্যাটিংয়ে নামেনি। ফলে দ্বিতীয় দিনে ইস্ট জোনের লক্ষ্য থাকবে যতটা সম্ভব বড় রান তুলে দক্ষিণ জোনের উপর চাপ তৈরি করা। অন্যদিকে দক্ষিণ জোনকে দ্রুত উইকেট তুলে ম্যাচে ফিরতে হবে।

দিনের শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইস্ট জোন — ৩৮৫/৪ (৭৯ ওভার)
ইশান কিষান — ১১১*
কুমার কুশাগ্রা — ৬৩*
শিখর মোহন — ৮৫
অভিমন্যু ঈশ্বরন — ৭২
বৈভব সূর্যবংশী — ৪৪
চামা ভি মিলিন্দ — ২/৫৬
ত্রিপুরানা বিজয় — ১/১১৪

ফাইনালের প্রথম দিন স্পষ্টতই ইস্ট জোনের দখলে। ইশান কিষানের অপরাজিত শতরান এবং কুশাগ্রার সঙ্গে ১৪৪ রানের জুটি দক্ষিণ জোনের সামনে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে দিয়েছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply