দিসপুর, ৮ জুলাই ২০২৬: অসমে সদ্য পাশ হওয়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বাতিলের দাবিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বারস্থ হলো সর্বভারতীয় সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চা (AIUDF)। ২০২৬ সালের ৮ জুলাই গুয়াহাটির দিসপুরে দলীয় প্রধান তথা বিধায়ক মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বে এআইইউডিএফ-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এবং এই আইনটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দেয়।
স্মারকলিপির মূল বিষয় ও এআইইউডিএফ-এর আপত্তি:
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল এই নতুন আইনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইনটিকে “অমানবিক” এবং অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দেন। এআইইউডিএফ-এর পক্ষ থেকে তোলা প্রধান দাবি এবং আপত্তিগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
- সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন: দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, অসম, ২০২৬’ বিলের বেশ কিছু ধারা মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যক্তিগত আইন (Personal Laws), ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘদিনের রীতিনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। এটি ভারতীয় সংবিধানের ২৫, ২৬, ২৯ এবং ৩০ অনুচ্ছেদের অধীনে সংখ্যালঘুদের দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারের পরিপন্থী।
- সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি: আজমল ঘোষণা করেছেন যে, এই আইনের বিরুদ্ধে তাঁরা কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, আইনিভাবেও লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং খুব শীঘ্রই বিলটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
- বিস্তৃত আলোচনার দাবি: তড়িঘড়ি এই আইন কার্যকর না করে, সমস্ত অংশীজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা বৈঠক এবং ব্যাপক আলোচনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবি:
ইউসিসি বাতিলের পাশাপাশি এআইইউডিএফ-এর এই স্মারকলিপিতে রাজ্যের আরও দুটি স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে:
১. পুশ-ব্যাক ও ডিটেনশন বন্ধের দাবি: উপযুক্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্থা করা এবং যত্রতত্র বেআইনি “পুশ-ব্যাক” (সীমান্তে পুশ-ব্যাক) ও ডিটেনশন অপারেশন অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। যেকোনো প্রত্যর্পণের আগে সঠিক আইনি যাচাইকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২. উচ্ছেদ হওয়াদের পুনর্বাসন: সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে চালানো বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুচ্যুত হওয়া পরিবারগুলির জন্য সম্পূর্ণ পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে প্রতিনিধি দলটি।
অসমের ইউসিসি আইনের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাসের শেষভাগে অসম বিধানসভায় এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি পাশ হয়। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের পর অসম ভারতের তৃতীয় বিজেপি শাসিত রাজ্য হিসেবে এই আইন কার্যকর করার পথে হেঁটেছে। এই আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সমস্ত বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনের নিয়ম আনা হয়েছে। তবে রাজ্যের আদিবাসী বা উপজাতি সম্প্রদায়গুলিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
