দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনের ১৮তম দিন: সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১০ দিনে পদার্পণ, এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল ফিরিয়ে দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানালেন অভিজিৎ দীপকে

দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনের ১৮তম দিন: সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১০ দিনে পদার্পণ, এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল ফিরিয়ে দেওয়ার হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানালেন অভিজিৎ দীপকে

নতুন দিল্লি,৮ জুলাই ২০২৬:: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলমান ছাত্র ও যুবসমাজের আন্দোলন আজ বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) ১৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) বাতিলের দাবিতে এই আন্দোলন দিনে দিনে আরও তীব্র রূপ ধারণ করছে। এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শুরু করা আমরণ অনশন আজ দশম দিনে প্রবেশ করেছে। অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় আন্দোলনস্থলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আন্দোলনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলটি সচল করার বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে নিজেদের আন্দোলনের এক বিশাল জয় হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, গত ১০ দিন ধরে একটানা অনশন করার ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবক্ষয় ঘটছে। অনশন শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যে তাঁর শরীরের ওজন প্রায় ৬ থেকে ৭ কেজি হ্রাস পেয়েছে এবং তাঁর রক্তচাপ (Blood Pressure) অত্যন্ত নিচে নেমে গেছে। চিকিৎসকদের একটি দল সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখছে। অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “দেশের যুবসমাজ ও বিশিষ্ট নাগরিকরা যখন নিজেদের অধিকারের জন্য জীবন বাজি রাখছেন, তখন সরকারের ঘুম কবে ভাঙবে?” এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন মঞ্চে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM)-এর একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জ্ঞাপন করেছে। কৃষক নেতারাও শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্ব পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডিজিটাল যুদ্ধে বড় জয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ

আন্দোলনের মাঠের উত্তেজনার মাঝেই আইনি লড়াইয়ে এক বড়সড় সাফল্য পেয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। গত মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ব্লক বা বন্ধ করে দেওয়া সিজেপি-র আদি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলটি (@CJP_2029) অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার একক বেঞ্চ এই নির্দেশ জারি করেন।

শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, গত মে মাসে NEET পরীক্ষার বাতিলের খবর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার আশঙ্কায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সেকশন ৬৯এ (Section 69A)-এর অধীনে অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে যেহেতু গত ২১ জুনের নিট (NEET) রি-টেস্ট এবং মূল পরীক্ষাসমূহ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে, তাই সরকারের এখন এই অ্যাকাউন্টটি আটকে রাখার আর কোনো আপত্তি নেই। আদালত উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর পর্যবেক্ষণ করে যে, যেহেতু পরীক্ষার সময়কাল পার হয়ে গেছে, তাই অ্যাকাউন্টটি ব্লক রাখার প্রাথমিক কারণটি আর প্রাসঙ্গিক নয়। ফলস্বরূপ, অবিলম্বে অ্যাকাউন্টটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কৌশল

হাইকোর্টের এই রায়কে মুক্তিসংগ্রাম ও বাকস্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক জয় বলে অভিহিত করেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তিনি এই আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য প্রবীণ আইনজীবী অখিল সিব্বাল এবং বৃন্দা গ্রোভারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দীপকে বলেন, “এটি কেবল আমাদের অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া নয়, বরং এটি দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর রোধ করার সরকারি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে মুক্ত চিন্তার জয়। আমরা অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই দেশের যুবসমাজের অধিকারের লড়াই জারি রাখব।”

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মৌখিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মে মাসে এই ব্যঙ্গাত্মক নাগরিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিট (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর দেশব্যাপী এক বিশাল ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। জন্তর মন্তরে বর্তমানে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-র সদস্যরাও পৃথক মঞ্চে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাইকোর্টের এই রায়ের পর আন্দোলনকারীরা ডিজিটাল মাধ্যমে আরও বেশি জনমত গঠন করতে সক্ষম হবে, যা মোদী সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply