আরএসএসের নীরবতা ঘিরে বিতর্ক: প্রিয়াঙ্ক খাড়গের চিঠির জবাব দেবে না সংঘ, নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন!

আরএসএসের নীরবতা ঘিরে বিতর্ক: প্রিয়াঙ্ক খাড়গের চিঠির জবাব দেবে না সংঘ, নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন!

কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের পাঠানো চিঠির জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংঘের এই অবস্থানকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে আরএসএস দাবি করছে, এই বিতর্ক সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলছেন, বিষয়টি আদৌ রাজনৈতিক নয়; বরং একটি বৃহৎ সংগঠনের সাংবিধানিক জবাবদিহি ও আর্থিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্প্রতি প্রিয়াঙ্ক খাড়গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি সংঘের আইনি অবস্থান, নিবন্ধন (Registration), অর্থের উৎস, কর প্রদান, সম্পত্তির বিবরণ এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।

চিঠিতে তিনি জানতে চান—

  • আরএসএস কোন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়?
  • সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত কি না?
  • সংগঠনের আয় ও ব্যয়ের উৎস কী?
  • কত কর প্রদান করা হয়?
  • সংগঠনের সম্পত্তি ও তহবিলের হিসাব কোথায় প্রকাশিত হয়?
  • জনজীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা একটি সংগঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার মানদণ্ড কী?

চিঠির জবাবে আরএসএস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোনও উত্তর দেবে না। সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত বলেন, এই ধরনের প্রশ্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তোলা হয়েছে এবং এর উত্তর দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

ভাগবতের বক্তব্য, “হিন্দু ধর্ম নিজেই নিবন্ধিত নয়। অনেক বিষয়ই নিবন্ধিত নয়। সরকারি অনুদান নিতে হলে নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। আরএসএস সরকার থেকে কোনও অনুদান নেয় না।” তিনি আরও দাবি করেন, আরএসএস প্রকাশ্যেই কাজ করে এবং দেশের মানুষ তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত।

আরএসএসের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, তাঁর প্রশ্ন কোনও ধর্মকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং একটি প্রভাবশালী সংগঠনের সাংবিধানিক জবাবদিহি নিয়ে।

তিনি বলেন, একটি সংগঠন যদি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার শাখা পরিচালনা করে, লক্ষ লক্ষ স্বয়ংসেবক নিয়ে কাজ করে এবং জননীতির উপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে সেই সংগঠনের অর্থের উৎস, আইনি কাঠামো ও আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

খাড়গে আরও অভিযোগ করেন, আরএসএসকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেই বিজেপি অস্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাঁর কথায়, “আরএসএসকে প্রশ্ন করলেই বিজেপি অস্থির হয়ে ওঠে।”

এই বিতর্কের মধ্যে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, ভারতের বর্তমান আইনে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জন্য সব ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। কোনও সংগঠন কী ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনা করছে, কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং কোন আইনি কাঠামোর অধীনে কাজ করছে—তার উপর নিবন্ধনের প্রশ্ন নির্ভর করে। ফলে আরএসএসের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে।

প্রিয়াঙ্ক খাড়গে জানিয়েছেন, যদি আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য না দেয়, তবে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে আরএসএস এখনও পর্যন্ত তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে নিবন্ধন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক জবাবদিহি নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply