বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি নিজেদের অবকাঠামোকে আয়ের নতুন উৎসে পরিণত করার পথ খুঁজছে। সেই দৌড়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে Meta Platforms। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি এমন একটি AI Cloud Infrastructure Business গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে বাইরের গ্রাহক ও ডেভেলপারদের কাছে AI কম্পিউটিং শক্তি (Compute Power) এবং AI মডেলে প্রবেশাধিকার ভাড়া দেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে Meta সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে Amazon Web Services (AWS), Google Cloud এবং Microsoft Azure-এর সঙ্গে। এতদিন Meta মূলত Facebook, Instagram, WhatsApp এবং নিজস্ব AI প্রযুক্তির জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা সেন্টার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন GPU ব্যবহার করত। এখন সেই বিশাল অবকাঠামোর অতিরিক্ত সক্ষমতাকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
কী পরিষেবা দিতে পারে Meta?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, Meta দুটি ধরনের পরিষেবা চালুর কথা বিবেচনা করছে—
- ডেভেলপারদের জন্য Meta-র ডেটা সেন্টারে হোস্ট করা AI মডেল ব্যবহারের সুযোগ।
- সরাসরি GPU ও AI Compute Power ভাড়ায় দেওয়া, যাতে অন্যান্য কোম্পানি নিজেদের AI অ্যাপ্লিকেশন চালাতে পারে।
এটি অনেকটা AWS-এর Bedrock পরিষেবা বা নতুন প্রজন্মের AI Cloud প্রদানকারী CoreWeave-এর ব্যবসায়িক মডেলের মতো হতে পারে।
গত কয়েক বছরে AI অবকাঠামো তৈরিতে Meta শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। উন্নত ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন AI চিপ এবং সুপারকম্পিউটিং সুবিধা গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছিল, এই বিনিয়োগ থেকে লাভ কীভাবে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়ায় দিলে সেই বিপুল বিনিয়োগের একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন-নির্ভর আয়ের বাইরে Meta-র জন্য নতুন রাজস্বের উৎস তৈরি হবে।
Meta-র এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সংস্থার শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অন্যদিকে AI Compute পরিষেবা প্রদানকারী CoreWeave ও Nebius-এর মতো কোম্পানির শেয়ারে চাপ পড়ে, কারণ Meta নিজেই যদি Compute পরিষেবা দিতে শুরু করে, তবে তাদের ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
যদিও Meta এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্প ঘোষণা করেনি। সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্যও করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর রূপ বা কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে AI প্রতিযোগিতা শুধু উন্নত ভাষা মডেল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং যে সংস্থাগুলির হাতে বিশাল ডেটা সেন্টার, উন্নত GPU এবং শক্তিশালী ক্লাউড অবকাঠামো থাকবে, তারাই বাজারে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা পাবে। Meta-র সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়, তবে AI Cloud পরিষেবার বাজারে এতদিনের প্রতিষ্ঠিত তিন শীর্ষ সংস্থা—AWS, Google Cloud ও Microsoft Azure—একজন নতুন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে চলেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
