চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু মালদার যুবকের, গ্রেপ্তার দুই!

চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু মালদার যুবকের, গ্রেপ্তার দুই!

মালদা জেলার চাঁচল থানার অন্তর্গত জলালপুর এলাকায় চুরির সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম এনামুল হক (৫৫)। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাতে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে যে, বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে তাঁকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে একদল ব্যক্তি লোহার রড ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে বেধড়ক মারধর করছে। খবর পেয়ে চাঁচল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, এনামুল হকের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এনামুল হকের ভাই রহমান হক জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাকি একটি পিকনিকের অজুহাতে তাঁর দাদাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর কী ঘটেছিল তা তাঁদের জানা নেই। পরে তাঁরা জানতে পারেন, এনামুলকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই নুরুল ইসলামনাসিম আখতার নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, চুরির সন্দেহ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অন্য কোনও কারণ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত ঘটনাকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোই একমাত্র পথ বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply