‘সীতার পতির নাম জপে নিতার পতির জন্য কাজ’, যন্তর মন্তরে সরকারের নীতি নিয়ে বিষ্ফোরক কুনাল কামরা

নয়া দিল্লি, ১৬ জুলাই:পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশনকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদী সমাবেশে দেশের কর্পোরেট-বান্ধব নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুনাল কামরা। সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি) নামক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই গণঅনশন ও বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে কুনাল কামরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

যন্তর মন্তরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কুনাল কামরা কেন্দ্র সরকারের ব্যবসায়ী অনুগত নীতি এবং ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করার প্রবণতাকে এক সুতোয় বেঁধে আক্রমণ শানান। ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির (নীতা আম্বানির স্বামী) ব্যবসায়িক সুবিধা করে দেওয়া এবং ভোটের রাজনীতিতে শ্রীরামের (সীতার স্বামী) নাম ব্যবহারের প্রবণতাকে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার মুখে ‘সীতার পতি’-র নাম জপ করলেও, আসলে কাজ করে চলেছে ‘নিতার পতি’-র স্বার্থে। তাঁর এই ধারালো মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বিতর্কের সূচনা করে। নেটিজেনদের একাংশ একে ধারালো ও সঠিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বলে সাধুবাদ জানালেও, অন্য অংশ ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে এভাবে রাজনৈতিক কুৎসা করার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, নিট (NEET) সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিগত ২৫ দিন ধরে দিল্লির বুকে এই বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনের সমর্থনে এবং যুবসমাজের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক বিগত ১৮ দিন ধরে অনশন জারি রেখেছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি সত্ত্বেও সরকারের অনমনীয় মনোভাবের প্রতিবাদে আজ, ১৬ জুলাই সিজেপি-র পক্ষ থেকে দেশব্যাপী এক দিনের এক গণঅনশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই মঞ্চেই মহাত্মা গান্ধীর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরে হাজির হন কুনাল কামরা এবং পড়ুয়াদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সরকারের ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতিদের পাইয়ে দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।

কুনালের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে বাক-স্বাধীনতার সীমা এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গে ধর্মীয় উপমার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারের নীতির সমালোচনা করার অধিকার সবার থাকলেও, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সনাতন ধর্মের আবেগকে এভাবে উপহাস করা অনুচিত। অন্যদিকে, কামরার সমর্থক এবং সমাজকর্মীদের বক্তব্য, এটি একটি অত্যন্ত সার্থক রূপক (Metaphor), যা দিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দেশের বর্তমান শাসকদলের দ্বিচারিতাকে তুলে ধরা হয়েছে। এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেই যন্তর মন্তরের আন্দোলন ক্রমশ দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর রূপ ধারণ করছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply