জেলাশাসকের অফিস চত্বরে মসজিদ, আদালতের রায়ের পরেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

জেলাশাসকের অফিস চত্বরে মসজিদ, আদালতের রায়ের পরেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

সরকারি জায়গায় কোনও মসজিদ থাকতে পারে না দাবি করে মামলা করেন বজরং দলের প্রাক্তন প্রদেশ আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগী। সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুরু হয় মামলা।

সাহারানপুরের মসজিদ ভেঙে দিল জেলা প্রশাসন। শুক্রবার রাত থেকে গোটা এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শনিবার ভোরে শুরু হয় ভাঙার কাজ। সকাল ৮টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় গোটা মসজিদ। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশে। ঘটনার আগে সাহারনপুরের সাংসদ ইকরা হোসেনকে গৃহবন্দি করা হয় বলে অভিযোগ।

সাহারানপুরে জেলাশাসকের দফতর চত্বরে থাকা একটি মসজিদ ভেঙে দিল জেলা প্রশাসন। শনিবার ভোরে শুরু হয় ভাঙার কাজ, সকাল ৮টার মধ্যে পুরো মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং ৬ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।

সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জেলা জজের আদালতে যায় মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ২ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে আগের নির্দেশই বহাল রাখা হয়। এর পরেই মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

সাহারানপুরের সাংসদ ইকরা হোসেনকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদ ভাঙার অভিযান ঠেকাতে সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাঁর বাড়িতে পুলিশ পৌঁছয় বলে অভিযোগ সাংসদের।

ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সরকারের সমালোচনা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন।

মসজিদটি সাহারানপুরের জেলাশাসকের দপ্তর চত্বরে ছিল। সরকারি জায়গায় কোনও মসজিদ থাকতে পারে না দাবি করে মামলা করেন বজরং দলের প্রাক্তন প্রদেশ আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগী। সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুরু হয় মামলা। শেষ পর্যন্ত ১৬ জুলাই মসজিদকে বেআইনি ঘোষণা করে আদালত। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ৬ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়।

নগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জেলা জজের আদালতে যান মসজিদ কর্তৃপক্ষ। সেই মামলার রায় ঘোষণা হয় ২ সেপ্টেম্বর। নগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বহাল রাখে জেলা জজের আদালত। এর পরেই মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। শুক্রবার রাতেই পে লোডার-সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি রাখা হয় জেলাশাসকের দপ্তরে। এদিন সকাল থেকে শুরু হয় ভাঙার কাজ।

সাহারানপুরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG) অভিষেক সিং জানিয়েছেন, সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত রায় দিয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটি আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এর পরেই মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাংসদ ইকরা হোসেন। কিন্তু তার আগেই তাঁকে গৃহবন্দি করা হয় বলে অভিযোগ। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি বাইরে বেরোতে যাচ্ছি, সেই সময়ে বাড়িতে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ এসে হাজির হয়।’ এই নিয়ে তোপ দেগেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সেটিই সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্যও হওয়া উচিত।’

১. কেন মসজিদটি ভাঙা হল?
প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমিতে বেআইনি ভাবে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই অভিযোগে আদালতে মামলা হয় এবং পর পর দু’টি আদালতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

২. মসজিদ ভাঙার নির্দেশ কে দিয়েছিল?
প্রথমে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে বেআইনি ঘোষণা করে। পরে জেলা জজের আদালতও সেই নির্দেশ বহাল রাখে।

৩. কত টাকা জরিমানা করা হয়েছিল?
সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ৬ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

৪. মসজিদটি কোথায় ছিল?
সাহারানপুরের জেলাশাসকের দফতর চত্বরে মসজিদটি ছিল।

৫. ইকরা হোসেনকে কেন গৃহবন্দি করা হয়েছিল?
মসজিদ ভাঙার অভিযান ঠেকাতে তিনি সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় তাঁর বাড়িতে পুলিশ পৌঁছে তাঁকে বাইরে যেতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ।

৬. প্রশাসন কী বলেছে?
সাহারানপুরের DIG অভিষেক সিংয়ের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের পরই মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply