৪৫.৭ কেজি ওজনে ১৪০ কেজির ডেডলিফ্ট! বিশ্বমঞ্চে রুপো কেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভাইরাল হতেই শুরু অনলাইন হেনস্থা

৪৫.৭ কেজি ওজনে ১৪০ কেজির ডেডলিফ্ট! বিশ্বমঞ্চে রুপো কেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভাইরাল হতেই শুরু অনলাইন হেনস্থা

বিশ্বমঞ্চে রুপো কেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ওয়েবডেস্ক: মাত্র ৪৫.৭ কেজি শরীরের ওজন। অথচ মাটি থেকে তুলে ফেললেন ১৪০ কেজির বিশাল বারবেল। নিজের ওজনের প্রায় তিন গুণেরও বেশি ওজন তুলে বিশ্বমঞ্চে নজর কেড়েছেন ভারতের তরুণ পাওয়ারলিফটার কেয়া কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই অসাধারণ পারফরম্যান্স এনে দিয়েছে রুপোর পদক

২০২৬ সালের IPF World Sub-Junior & Junior Classic Powerlifting Championships অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে। সেখানেই Junior Women’s 47kg বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২১ বছরের কেয়া।

১৪০ কেজির ডেডলিফ্টে রুপো

প্রতিযোগিতায় কেয়ার শরীরের ওজন ছিল ৪৫.৭০ কেজি। এর পরেও তিনি ডেডলিফ্টে ১৪০ কেজি তুলতে সক্ষম হন। অর্থাৎ নিজের শরীরের ওজনের প্রায় ৩.০৬ গুণ ওজন তুলেছেন তিনি।

এই লিফটের জন্য ব্যক্তিগত ডেডলিফ্ট ইভেন্টে রুপোর পদক পান কেয়া। ফ্রান্সের Ines Herbaux ১৬৫ কেজি তুলে সোনা জেতেন। আয়ারল্যান্ডের Blathnaid O’Dwyer-ও ১৪০ কেজি তুলেছিলেন। তবে ফলাফলে কেয়া দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে রুপো জেতেন।

শুধু ডেডলিফ্টেই নয়, তিনটি ইভেন্ট মিলিয়েও ভালো পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। তাঁর স্কোয়াট ছিল ৯০ কেজি, বেঞ্চ প্রেস ৫০ কেজি এবং ডেডলিফ্ট ১৪০ কেজি—মোট ২৮০ কেজি। সামগ্রিকভাবে ৪৭ কেজি জুনিয়র বিভাগে তিনি পঞ্চম স্থান অর্জন করেন।

এক বছরের ব্যবধানে বড় উন্নতি

কেয়ার পারফরম্যান্সে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতিও দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাঁর ডেডলিফ্ট ছিল ১২৭.৫ কেজি। ২০২৬ সালের জাতীয় পর্যায়ে সেটি বেড়ে হয় ১৪০ কেজি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও সেই ১৪০ কেজির লিফট ধরে রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুপো জিতেছেন তিনি।

তবে এই সাফল্যের পরই কেয়ার সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্য এক বাস্তবতা।

সাফল্যের পর কেন অনলাইন হেনস্থার অভিযোগ?

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর কেয়াকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পাশাপাশি তিনি অনলাইন হেনস্থা, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর AI-generated ছবি তৈরির অভিযোগও তুলেছেন।

কেয়া জানিয়েছেন, তাঁর ছবি ও শরীর ব্যবহার করে হাজার হাজার বিকৃত AI ছবি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং অনলাইন হয়রানির ঘটনাও সামনে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

একজন মহিলা ক্রীড়াবিদ বিশ্বমঞ্চে দেশের হয়ে পদক জেতার পর তাঁর সাফল্যের বদলে যদি চেহারা বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অনলাইন হেনস্থার শিকার হন, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের একটি গুরুতর দিক সামনে আনে।

কেয়া অবশ্য এই বিতর্কের মধ্যেও নিজের খেলাতেই মন দিতে চান। তাঁর ১৪০ কেজির ডেডলিফ্ট শুধু একটি ভাইরাল ভিডিও নয়—এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি।

৪৫.৭ কেজি ওজনের একজন অ্যাথলিট যখন বিশ্বমঞ্চে ১৪০ কেজি তোলেন, তখন সেই মুহূর্তের পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর শক্তি ও সাফল্য দিয়ে।

আর কেয়ার এই সাফল্য ভারতীয় পাওয়ারলিফটিংকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

বিশ্বমঞ্চে রুপো জয় থেকে ভাইরাল ১৪০ কেজির ডেডলিফ্ট—কেয়া কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য নজির।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply