নতুন দিল্লি, ২২ জুলাই: দিল্লির বুকে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল চরমে। এই আবহেই আন্দোলন ঘিরে নিজের অবস্থান একপ্রকার পরিবর্তন করে চরম বিতর্কের মুখে পড়লেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা। সম্প্রতি সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই অবস্থান সামলে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ বা ‘অসামাজিক উপাদানে’র প্রবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে অভিনেত্রীকে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক নতুন বার্তায় প্রীতি লেখেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংস্কারের দাবি তোলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও, এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যেন কোনোভাবেই ‘দেশবিরোধী শক্তি’ দ্বারা অপব্যবহৃত না হয়। আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিনেত্রীর আশঙ্কা, দেশ এবং দেশের বাইরের কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি লেখেন, “অনলাইনে হিংসা ও বিভাজন দেখে মনে হচ্ছে, দেশের ভিতরের ও বাইরের কিছু অশুভ শক্তি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে ওভারটাইম কাজ শুরু করেছে।” একই সঙ্গে তিনি সরকার ও আন্দোলনকারীদের গঠনমূলক আলোচনায় বসে অসামাজিক উপাদানগুলোকে আন্দোলন থেকে ছেঁটে ফেলার আহ্বান জানান।
একদিন আগেই যেখানে প্রীতি জিন্টা সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীদের এবং অসুস্থ সোনম ওয়াংচুকের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে আচমকা দেশবিরোধী চক্রান্তের তত্ত্ব নিয়ে আসায় নেটিজেনদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে এটি শুধুই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করার চেষ্টা।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী সরাসরি কটাক্ষ করে লেখেন, “স্ক্রিপ্ট মিল গয়া হ্যায়” (স্ক্রিপ্ট পেয়ে গেছেন)। তবে অভিনেত্রীও থেমে থাকেননি। ট্রোলের উত্তর দিতে গিয়ে পাল্টা জবাব ফিরিয়ে প্রীতি লেখেন, “স্ক্রিপ্ট সিনেমায় পাওয়া যায়, বাস্তব জীবনে নয়!”
উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে আন্দোলনরত সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর থেকে বিতর্ক আরও বেড়েছে। শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, রিতেশ দেশমুখের মতো বেশ কয়েকজন তারকা আন্দোলনকারীদের সমর্থনে সরব হলেও প্রীতি জিন্টার এই সাম্প্রতিক ‘সতর্ক বার্তা’ নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার কথা বললেও, প্রীতির এই দ্বিমুখী বার্তা সত্যিই তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, নাকি ওপর মহল থেকে আসা চাপ—তা নিয়েই এখন উত্তাল নেটপাড়া।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
