২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে ক্ষোভ! মমতা-কল্যাণ রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে জল্পনা

২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণের দৈর্ঘ্য নিয়ে ক্ষোভ! মমতা-কল্যাণ রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে জল্পনা

কলকাতা, ২২ জুলাই: একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণের মহাসমাবেশ ঘিরে প্রতি বছরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ থাকে তুঙ্গে। তবে এ বার সমাবেশের মঞ্চে বক্তাদের তালিকা এবং ভাষণের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া এক অভ্যন্তরীণ বিবাদ রাজনৈতিক অলিন্দে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পেশের দৈর্ঘ্য এবং তা নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোভাবের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হতেই তোলপাড় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল

ঐতিহাসিক ধর্মতলার মঞ্চে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে। এই বিশেষ দিনে দলের মূল বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সাধারণত তাঁর বক্তব্যের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ, মন্ত্রী এবং তরুণ নেতৃত্বের একাংশকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিনের সমাবেশে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠলে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন সময়সীমা নিয়ে এক প্রকার অসন্তোষ তৈরি হয়।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল্যাণ যখন বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য রাখছিলেন, সেই সময়ে নির্ধারিত সূচি মেনে মূল বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময় এগিয়ে আসছিল। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনুশাসন অনুযায়ী, প্রধান বক্তার বক্তব্যের আগে অন্যান্য নেতাদের সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দীর্ঘায়িত হওয়ায় দলীয় মঞ্চেই তা নিয়ে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দলের অন্দরের খবর, ভাষণের দৈর্ঘ্য ছোট করার বিষয়ে ইঙ্গিত আসায় ক্ষোভ গোপন রাখেননি প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে এক ধরনের চাপা টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। কল্যাণ ঘনিষ্ঠদের মতে, সাংসদ হিসেবে লোকসভায় এবং জনসভায় দলের হয়ে বরাবরই স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত তিনি। সেখানে শহিদ তর্পণের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে বক্তব্য গুটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়াটা তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমোর অনুগামীদের সাফ কথা— ২১ জুলাইয়ের জনসভার মূল আকর্ষণ থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের লাখো সমর্থক মূলত নেত্রীর নির্দেশিকা শুনতেই মুখিয়ে থাকেন। ফলে অন্যান্য বক্তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাই দস্তুর। সময় ব্যবস্থাপনার সেই তাগিদ থেকেই বক্তব্য সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিবাদের জায়গা নেই।

তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ আসলে একটা গোষ্ঠীকোন্দলের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব যে ক্রমেই বাড়ছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশে সেটাই প্রমাণিত।

তবে বিরোধী শিবিরের যাবতীয় কটাক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, তৃণমূল এক বিশাল পরিবার। সেখানে বক্তব্য পেশ বা সময়ের সমন্বয় নিয়ে দু’-একটি অনভিপ্রেত কথা বা ক্ষোভ সাময়িক ঘটনা মাত্র। একুশে জুলাইয়ের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করাই দলের মূল উদ্দেশ্য, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আলোচনা নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শহিদ দিবসের মঞ্চের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ আগামী দিনে দলীয় সংগঠনে কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply