নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর:
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি গ্রামে নিজের বাড়ির সামনে মদ্যপান এবং চিৎকার-চেঁচামেচির প্রতিবাদ করায় একদল যুবকের হাতে মারধরের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন মণিপুরের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী চংথাম বিক্রম সিং। রবিবার গভীর রাতের এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং এক নাবালককে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ এবং পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী বিক্রম সিং পেশায় অবসরপ্রাপ্ত সঙ্গীত শিক্ষক এবং মণিপুরের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ফিনিক্স’-এর লিড গিটারিস্ট ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁর বাড়ির সামনে কয়েকজন যুবক মদ্যপান করছিল এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। গোলমাল থামিয়ে আওয়াজ কমাতে বলায় যুবকদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে তাঁর ওপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে।
চিৎকার শুনে বিক্রম সিংয়ের স্ত্রী ও ছেলে ইইফাবা বাইরে বেরিয়ে এসে অভিযুক্তদের হাত থেকে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে ইইফাবা তাঁকে ওখলার হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ আঘাতজনিত শকের কারণে সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সানলাইট কলোনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার জানিয়েছেন, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকরা কথা বলেছেন। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনায় যুক্ত এক নাবালককে আটক করেছে। ধৃতরা স্থানীয় ধাবা এবং খাবার সরবরাহকারী সংস্থার কর্মী হিসেবে কাজ করত। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি দিল্লি ইউনিভার্সিটি এই ঘটনাটিকে চরম অর্থহীন হিংসা হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। অবিলম্বে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দিল্লি পুলিশকে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় স্তরে এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিবরণ শেয়ার করে, পুলিশ বলেছে যে তারা ভারত কুমার (19), প্রমোদ (26), রমজান খান (22), দীপাংশু (21), মোহন বিশ্বকর্মা (32), বিজয় (36), মান্নু (26) এবং একজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সবাই বিভিন্ন ধাবা ও খাবারের দোকানের কর্মী।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
