নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর:
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চলাকালীন এক ছাত্র আন্দোলনকারীর বাবাকে শারীরিক নিগ্রহ এবং সামাজিক মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পকসো এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের মতো একাধিক জামিন-অযোগ্য ও কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে তাঁর পক্ষ থেকে দিল্লি হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির সময়। সেখানে ছাত্র আন্দোলনকারী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিও পডকাস্টে ভরদ্বাজকে দম্ভভরে স্বীকার করতে দেখা যায় যে, তিনি ওই ব্যক্তির মাথার খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মতো ধারা প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ সংঘটিত হয়। ক্ষোভের মুখে দিল্লির বিশেষ ক্রাইম ব্রাঞ্চের দল তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে আটক করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযুক্তকে আদালতের সামনে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীকালে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের দল লোক জনশক্তি পার্টিও ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাম ব্যবহারের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে। বিতর্কিত ভিডিওতে ভরদ্বাজ নিজেকে চিরাগ পাসোয়ান ও বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর দলের সঙ্গে এই ব্যক্তির কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই এবং কেউ অন্যায় করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম অপব্যবহার করলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ভারতীয় নারী সুরক্ষা ও সম্মানহানি সংক্রান্ত ধারা এবং পকসো আইনের অধীনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। নাবালিকা ওই ছাত্র আন্দোলনকারীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া এবং ইন্টারনেটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগেও আলাদা তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই চরম অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

