নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর:
দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর খবর সম্প্রচারের অভিযোগে সরকারী গ্ণমাধ্যম ডিডি নিউজ -এর সাংবাদিক সুধীর চৌধুরী, তাঁর প্রযোজনা সংস্থা এবং ডিডি নিউজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন এক ছাত্র আন্দোলনকারী। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চলাকালীন তাঁর ছবি ব্যবহার করে চরমপন্থী মন্তব্য ও দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ভুয়ো অভিযোগ তোলার কারণেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিল্লি হাই কোর্টে দায়ের হওয়া এই মানহানির মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র আন্দোলনকারী বিজয় শেরাওয়াত এই মামলাটি দায়ের করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৭ জুলাই ডিডি নিউজে সুধীর চৌধুরীর সঞ্চালিত ‘ডিকোড’ অনুষ্ঠানে শেরাওয়াতের ছবি প্রদর্শন করে তাঁকে সংসদে হামলার হুমকিদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছিল যে, তিনি নাকি ‘সংসদ ভবন উপড়ে ফেলা হবে এবং ভারতকে নেপাল বানিয়ে দেওয়া হবে’ ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছিলেন। তবে শেরাওয়াতের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো বক্তব্য তাঁর মক্কেল দেননি। সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ব্যক্তির দেওয়া মন্তব্যকে বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শেরাওয়াতের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সত্যতা যাচাই না করেই সুধীর চৌধুরী ও সম্প্রচারকারী মাধ্যম অসত্য তথ্য প্রচার করেছে। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স ও ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শেরাওয়াত এবং তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যা, শারীরিক আক্রমণ এবং এমনকি শিরচ্ছেদের প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হতে থাকে। একটি স্পষ্টীকরণ ভিডিও প্রকাশ করার পরেও এই হুমকি ও সাইবার হেনস্থা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই মানহানিকর সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে এবং বিতর্কিত সম্প্রচারটি ইন্টারনেট ও টেলিভিশন মাধ্যম থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ সংশ্লিষ্ট মামলাটি গ্রহণ করেন এবং বিতর্কিত সম্প্রচারটি প্রত্যাহারের আবেদনের ওপর সাংবাদিক সুধীর চৌধুরী ও নিউজ চ্যানেলের বক্তব্য চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তির আবেদনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

